কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভরাসার বাজারের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি বটগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগে ওই বটগাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ভরাসার বাজার। বর্তমানে গাছটির নিচে ও আশপাশের সরকারি (খাস) ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাজুড়ে প্রায় ৩৬০টি দোকানপাট ও হাটবাজার রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের খাস জায়গা দখল করে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদন ছাড়াই ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে সরকারি জায়গায় থাকা শতবর্ষী বটগাছটি কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এর কয়েকটি বড় ডাল-পালাও কেটে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
অস্ত্র ও গুলিসহ আত্মসমর্পণ করলো সুন্দরবনের ৩ বনদস্যু
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন তোহা বাজারের খাস জায়গা দখল হোটেল দিয়ে রেখেছেন। মাছ বাজারের খাস জায়গা দখল করে মুরগির দোকান দিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেতার ভাই নাঈম। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের একাধিক দোকান রয়েছে।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মাহবুবুর রহমান পক্কু বলেন, লোকমুখে শুনেছি, গাছটি কাটার পেছনে কিছু স্বার্থ থাকতে পারে। বাজারের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক এই বটগাছ। এটি কেটে ফেললে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছটি শুধু বাজারের সৌন্দর্যই নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গাছটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
গাছ কাটার আগে ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘ভরাসার বাজারে পুরোনো বটগাছটি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু বাজার পরিদর্শন করে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেন।’
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শিশুর
বাজার পরিচালনা কমিটির কমান্ডার বাহার মিয়া ও যুগ্ম সম্পাদক রতন বলেন, গাছটি অনেক পুরোনো। এর ছায়াতেই বাজার গড়ে উঠেছে। কারা মোটা ডালগুলো কেটেছে আমরা জানি না। তবে পুরো গাছ কেটে ফেললে বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।

বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বটগাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। কী কারণে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, এই বট গাছটির কারণে দোকানদারা আতঙ্কে রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমরা গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরও পড়ুন
স্ত্রী হত্যার ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
বুড়িচং ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. তারেক বিন ওয়ালী বলেন, অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় কিছু লোক গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কয়েকটি ডাল কেটে ফেলে। ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ভরাসার বাজারের বটগাছ কাটার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের লোকজন পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এএসএম








