কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে জনপ্রিয় দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ও এক্স একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সার্চ ফলাফল ও ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এমন কিছু ওয়েবসাইটে পৌঁছে যাচ্ছেন, যেখানে অনুমতি ছাড়া মানুষের, বিশেষ করে নারীদের, অন্তরঙ্গ বা নগ্ন ডিপফেক ছবি তৈরি করার টুল পাওয়া যায়।

গবেষণাটি প্রকাশ করেছে ইস্টিটিউড ফর স্ট্যাটেজিক ডাইলগ। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মাত্র চার মাসে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এ ধরনের ওয়েবসাইটে কয়েক মিলিয়ন ভিজিট হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইউটিউব থেকে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার এবং এক্স থেকে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভিজিট এমন ওয়েবসাইটে গেছে, যেখানে এআই-নির্ভর ‘আনড্রেস’ বা পোশাক সরিয়ে দেওয়ার মতো ডিপফেক টুলের প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন

এখন এআই কথা বলবে একেবারে মানুষের মতো

গবেষকদের দাবি, ব্যবহারকারীরা ‘আনড্রেস অ্যাপ’ বা এ ধরনের কীওয়ার্ড লিখে খুঁজলে বিভিন্ন প্রচারমূলক ভিডিও ও পোস্ট দেখতে পেতেন। এসব কনটেন্টে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লিংক, প্রোমো কোড এবং বিনামূল্যে ব্যবহার করার অফারও যুক্ত ছিল, যা ব্যবহারকারীদের ওই সেবাগুলো ব্যবহার করতে উৎসাহিত করত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি উদ্বেগজনক কারণ অধিকাংশ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালায় ক্ষতিকর, যৌন হয়রানিমূলক এবং সম্মতি ছাড়া তৈরি করা অন্তরঙ্গ কনটেন্টের প্রচার নিষিদ্ধ। তাই এমন টুলের প্রচারমূলক কনটেন্ট কীভাবে প্ল্যাটফর্মে দৃশ্যমান থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিপফেক প্রযুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত উন্নত হলেও এর অপব্যবহারও সমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কারও সম্মতি ছাড়া তার মুখ ব্যবহার করে ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সুনাম এবং নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ সার্চ করলেই যা দেখাচ্ছে

গবেষকরা মনে করছেন, শুধু সরাসরি অশ্লীল কনটেন্ট সরিয়ে দিলেই হবে না; বরং যেসব ভিডিও বা পোস্ট ব্যবহারকারীদের এমন ডিপফেক টুলের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এই অভিযোগের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কনটেন্ট মডারেশন ও নিরাপত্তা নীতিমালা কতটা কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের টুলের বিস্তার অনলাইন হয়রানি ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কেএসকে