সামিন ইয়াসার
কোড লেখার সময় এতদিন এআই মানে ছিল মূলত অটোকমপ্লিট, বড় জোর কোপাইলটের মতো টুল যা পাশ থেকে দু-এক লাইন সাজেস্ট করে দেয়। গত বছরের নভেম্বরে জেমিনি ৩ মডেলের সঙ্গে গুগল যে অ্যান্টিগ্র্যাভিটি নিয়ে এলো, তাতে এই চেনা ছবিটাই বদলে গেছে। এখানে এআই শুধু পরামর্শ দিয়ে থেমে থাকে না, নিজেই কোড লেখে, টার্মিনালে কমান্ড চালায়, ব্রাউজার খুলে অ্যাপ টেস্ট করে এবং কী করল তার একটা রিপোর্ট হাতে ধরিয়ে দেয়।
ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোডের একটা পরিবর্তিত সংস্করণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অ্যান্টিগ্র্যাভিটিতে দুটো ভিউ আছে। এডিটর ভিউ দেখতে চেনা আইডিইর মতোই, পাশে এজেন্টের সঙ্গে চ্যাট করতে করতে কোড লেখা যায়। ম্যানেজার ভিউ পুরো নতুন একটা ধারণা, একসঙ্গে একাধিক এজেন্ট আলাদা আলাদা ওয়ার্কস্পেসে কাজ চালিয়ে যায়, ব্যবহারকারী শুধু ইনবক্সে চোখ রাখেন কোনটা কতদূর গড়ালো।
ম্যাক, উইন্ডোজ ও লিনাক্স-তিন প্ল্যাটফর্মেই এখন এটা পাবলিক প্রিভিউতে বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। বাই ডিফল্ট জেমিনি ৩ প্রো চলে, চাইলে ক্লদ সনেট বা জিপিটি-ওএসএস-এও সুইচ করে নেওয়া যায়। ইনস্টলের পর গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলেই কাজ শুরু করা যায়। টুলটা হাতে পাওয়া আর সেটা থেকে আসলে কাজের কাজ বের করে আনা, দুটো আলাদা জিনিস। কয়েকটা অভ্যাস রপ্ত করলে অ্যান্টিগ্র্যাভিটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
ইউসি ব্রাউজারের উত্থান-পতন: ইন্টারনেটের রাজা যেভাবে হারিয়ে গেল
এজেন্টকে কতটা লাগাম ছাড়বেন
ইনস্টলের সময়েই তিনটা মোডের একটা বেছে নিতে হয়। এজেন্ট-ড্রিভেন মোডে এজেন্ট নিজে থেকেই সব করে ফেলে, অনুমতি চায় না। রিভিউ-ড্রিভেন মোডে বড় প্রতিটা পদক্ষেপের আগে থেমে অনুমতি চায়। মাঝামাঝি অবস্থানে আছে এজেন্ট-অ্যাসিস্টেড মোড, ছোটখাটো নিরাপদ কাজ নিজেই সেরে ফেলে, বড় সিদ্ধান্তের আগে জানায়। নতুনদের জন্য শুরুতে রিভিউ-ড্রিভেন মোডই নিরাপদ, কারণ এজেন্ট কোথায় কী বুঝল সেটা কাজ শুরুর আগেই ধরা যায়। ভরসা তৈরি হলে পরে অটোনমি বাড়ানো যায়।
প্রজেক্টের প্রেক্ষাপট লিখে রাখুন
প্রজেক্ট ফোল্ডারে একটা এজেন্ট ডটএমডি ফাইল রাখলে এজেন্ট প্রতিটা কাজ শুরুর আগে সেটা পড়ে নেয়। প্রজেক্টের স্ট্রাকচার, কোন লাইব্রেরি ব্যবহার হচ্ছে, কোন প্র্যাকটিস মানতে হবে, কী করা যাবে না, এসব লিখে রাখলে এজেন্ট বারবার একই ভুল করা বন্ধ করে দেয়। টার্মিনালে কোনো কমান্ড এজেন্ট নিজে থেকে চালাতে পারবে সেটাও হোয়াইটলিস্ট করে দেওয়া যায়, যেমন বিল্ড বা টেস্ট কমান্ড।
কোড লেখার আগে প্ল্যান পড়ুন
প্ল্যানিং মোডে অ্যান্টিগ্র্যাভিটি কোড লেখা শুরুর আগে একটা ধাপে ধাপে পরিকল্পনা তৈরি করে, একে বলা হয় আর্টিফ্যাক্ট। এই প্ল্যানটা পড়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথম ধাপেই এজেন্ট ভুল দিকে গেলে সেখানেই একটা মন্তব্য দিয়ে শুধরে দেওয়া যায়। পাঁচটা ফাইল লেখা হয়ে যাওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে পুরোটা আবার করতে হয়, সময় নষ্ট হয় অনেক বেশি।
নতুন করে প্রম্পট না লিখে মন্তব্য করুন
এজেন্টের বানানো কোনো আর্টিফ্যাক্ট বা কোড পছন্দ না হলে গোড়া থেকে নতুন প্রম্পট লেখার দরকার নেই। গুগল ডক্সের কমেন্টের মতোই নির্দিষ্ট অংশে ক্লিক করে মন্তব্য জুড়ে দেওয়া যায়, যেমন ‘এখানে এরর হ্যান্ডলিং যোগ করো’ বা ‘এই ফাংশনটা আগের মতোই রাখো’। এজেন্ট শুধু চিহ্নিত অংশটুকু ঠিক করে, বাকি কোড অক্ষত থাকে। মডেল বাছাইতেও একই যুক্তি খাটে, সব কাজে সবচেয়ে ভারী মডেল না চালিয়ে জটিল প্ল্যানিংয়ে শক্তিশালী মডেল আর সাধারণ ইমপ্লিমেন্টেশনে হালকা মডেল ব্যবহার করলে কোটা অনেকদিন টিকে যায়। একই কথোপকথনের মধ্যেই মডেল বদলানো যায়।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরলো অ্যানথ্রপিকের ফেবল ৫
সতর্কতার জায়গা
এজেন্টের হাতে ফাইল, টার্মিনাল আর ব্রাউজার, তিনটারই নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই এপিআই কি বা পাসওয়ার্ডের মতো স্পর্শকাতর তথ্য কোডবেসে খোলা রাখা ঠিক না। কোনো ডকুমেন্ট বা কমেন্টে লুকানো নির্দেশনা থাকলে এজেন্ট অজান্তেই সেটা অনুসরণ করে ফেলতে পারে, এই ঝুঁকিটা মাথায় রাখা দরকার। গিট দিয়ে নিয়মিত কমিট করে রাখলে এজেন্ট ভুল করলেও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সহজ হয়।
মে মাসে গুগল আই/ও-তে অ্যান্টিগ্র্যাভিটি ২.০ এসেছে, যেখানে ম্যানেজার ভিউটা এখন আলাদা একটা স্ট্যান্ডঅ্যালোন অ্যাপ, একসঙ্গে অনেকগুলো ফোল্ডার ও প্রজেক্ট জুড়ে এজেন্ট চালানো যায়। তারপরও টুলটা এখনো প্রিভিউ পর্যায়ে আছে, ভুল ইমপোর্ট লিখে ফেলা বা একই বাগ বারবার ফিক্স করার চেষ্টার মতো সমস্যা মাঝেমধ্যে হতেই পারে। যারা কোড শিখছেন বা ছোট সাইড প্রজেক্ট বানাতে চান, তাদের জন্য শুরুতে ছোট কাজ দিয়ে অভ্যস্ত হওয়াটাই ভালো পথ, পুরো প্রজেক্ট একবারে এজেন্টের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আগে।
লেখক: প্রযুক্তি লেখক ও পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি গবেষক।
কেএসকে





