অপতথ্য ও সাইবার বুলিং রোধে আইনগত বিষয়টি দেখভালের জন্য আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় এখানে কিছু জিনিস কমব্যাট করার জন্য...এর মধ্যে প্রধান ব্যাপার হচ্ছে ডিজইনফরমেশন (অপতথ্য) এবং খানিকটা মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য)। বিশেষ করে ডিজইনফরমেশন নিয়ে আমাদের খুবই সিরিয়াস চিন্তা আছে। সাইবার বুলিং— বিশেষ করে নারীদের ওপরে যা হয় নিয়মিতভাবে। মানে একটা মানুষ নারী বলে তার ওপর মারাত্মক সাইবার বুলিং হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তিনি যদি ভিন্ন কিছু বলে থাকেন।

আরও পড়ুন

তথ্য উপদেষ্টা / পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট না হলে নতুন মুখ আনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, এজন্য আমি বলেছিলাম যে, তথ্য মন্ত্রণালয় তার অধীনে একটা আইনজীবী প্যানেল তৈরিতে কাজ করছে, যেই প্যানেলটি আসলে এই ব্যাপারগুলোকে আইনগতভাবে ডিল করবে। আমি আপনাদেরকে এই খবরটা দিতে চাই, সুখবর— প্রায় সবার জন্য সুখবর, কারও কারও জন্য দুঃসংবাদ— এভাবেও বলতে পারি। সুখবর আমাদের আপামর মানুষের জন্য, সেটা হচ্ছে তথ্যের নামে আমাদের ওপরে যে ধরনের অত্যাচার বা অন্যায় হয়... তথ্যের দ্বারা কিন্তু অন্যায় হতে পারে। তথ্যের দ্বারা মারাত্মক অপরাধ... আমরা যে কোনো ডিজইনফরমেশনের শিকার হতে পারি, আমরা যে কোনো মারাত্মক মিথ্যা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারি, আমরা ফেক ছবি, ফেক ভিডিওর শিকার হতে পারি।

‌‘সেইরকম মানুষদের জন্য সুখবর হচ্ছে এই— আইনজীবী প্যানেল যেটা কথা বলা হয়েছিল, সেটা গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে। এটা কতগুলো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেস ছিল, বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে, ইন্টারভিউ হয়েছে, নানান রকম ভেরিফিকেশন ছিল, সব শেষে এই প্যানেল তৈরির কাজ শেষ। জাস্ট ফরমাল প্রজ্ঞাপনটা বাকি আছে, এটা খুব দ্রুত দুই-একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।’ 

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আমরা যেটা বলছিলাম, এটা কারও জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন তাদের জন্য। এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্সে নিতে যাচ্ছে, আপনারা সতর্ক হয়ে যান।  

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা যারা ডিজইনফরমেশন বা এই ধরনের বুলিং তৈরি করি অথবা যারা শেয়ার করি... লিটারেসির প্রশ্ন আছে, এটা রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব আছে যে সে মানুষকে লিটারেট করবে, সেই চেষ্টাও আমাদের আছে। কিন্তু জনগণেরও যখন একটা মিডিয়াম কেউ ব্যবহার করে, তা সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন

হজে কমলো বিমান ভাড়া, সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা

তিনি বলেন, আগে যেমন মিডিয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের এডিটরিয়াল ছিল, এডিটরিয়াল প্রসেস এখনো আছে আমাদের মেইনস্ট্রিমের ক্ষেত্রে, সোশ্যাল মিডিয়াতে যেহেতু নাই, নিজেকে এই ব্যাপারগুলো আসলে সবাইকেই একটু বুঝে করতে হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা খুব দ্রুত এটা করবো এবং আপনারা নিশ্চিত থাকুন—ডিজইনফরমেশন বিশেষ করে, সাইবার বুলিং বিশেষ করে, এগুলো এই রাষ্ট্র সহ্য করবে না, সরকার সহ্য করবে না।  

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, স্পেসিফিক অভিযোগের ভিত্তিতে যেমন এই প্যানেল কাজ করবে, আবার সে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও কাজ করবে। এটা শুধু যে সরকারের প্রতি যে ডিজইনফরমেশন সেটা নিয়ে কাজ করবে তা না, নাগরিকদের সুরক্ষার জন্যই আসলে তারা কাজ করবে। সুতরাং নাগরিকরাও যেন তাদের হয়রানি বা সমস্যা নিয়ে তথ্য দিতে থাকে, আমরা আশা করি এই প্যানেল কাজ শুরু করলে এগুলো আমরা কমিয়ে আনতে পারবো এবং আমরা দ্রুত করানোর চেষ্টা করবো।

আরএমএম/কেএসআর