ডেসটিনি, ইউনিপে টু ইউ ও জেকা বাজারের পর রাজবাড়ীতে এবার ‘ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে স্থানীয় কিছু স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ধর্মীয় লেবাসধারী ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির প্রলোভনে বিনিয়োগ করে এখন সর্বস্বান্ত কয়েক শ মানুষ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজবাড়ী শহরের আইয়ুব হিলটপ সুপার মার্কেটের (সাবেক বারেয়া বিগ বাজার) তৃতীয় তলায় ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম চলত। প্রায় ১ বছর আগে তারা সেখান থেকে আস্তানা গুটিয়ে পালায়। টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় এত দিন গ্রাহকেরা মুখ না খুললেও সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হয়। কেবল সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ভাণ্ডারিয়া গ্রাম থেকেই এক এজেন্ট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রতারণার শিকার হয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আবু তাহের জামাল নামে এক ইমাম স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তার স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নিষেধ করা সত্ত্বেও স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হকের প্রলোভনে পড়ে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন আমরা সব হারিয়ে নিঃস্ব।’ভাণ্ডারিয়া গ্রামের শিমুল শেখ নামের এক ভুক্তভোগী জানান, বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাইস্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল হক তাকে অনলাইন ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা নেন। বিনিময়ে একটি চেক দিলেও পরে জানা যায় সেটি ছিল ‘স্ক্যান করা’ ভুয়া চেক। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। একই গ্রামের আব্দুল জব্বার শেখও ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন। তার দেওয়া চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে সেটি ‘ডিজঅনার’ হয়।আরেক ভুক্তভোগী ইমাম হোসেন বলেন, ‘ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা আব্দুল হকের কথায় বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন পাওনাদারদের ভয়ে মুখ দেখাতে পারছি না।’ এ ছাড়া হাসান শেখ নামের এক ব্যক্তি আড়াই লাখ টাকা খুইয়েছেন বলে জানান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত আব্দুল হক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তলবেও সাড়া দিচ্ছেন না।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ডের কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকলেও প্রভাবশালী কিছু স্থানীয় ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিল। এখন এজেন্ট ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।\