পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নানা দায়িত্ব বা জরুরি কাজ অনেক সময় অফিসের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার মধ্যেই চলে আসে। আবার অনেক সময় অফিসের কাজের স্বার্থেই বাইরে কোনো সেমিনার বা মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্র ও পেশাদারত্বের জায়গা ঠিক রেখে বসের কাছ থেকে আগে বের হওয়ার অনুমতি নেওয়া একটি শিল্প।

কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ও উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে আগে বের হওয়ার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণগুলোর একটি হলো আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা বা আঘাত। অফিসে কাজ করার সময় যদি আপনি এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হন যা আপনার মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, কিংবা রোগটি যদি সংক্রামক হয়, তবে সহকর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থেই আগে অফিস ত্যাগ করা উচিত। এই ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব সিক-লিভ পলিসি বা অসুস্থতাজনিত ছুটির নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন, কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে থাকে।

একইভাবে, নিয়মিত বা জরুরি চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা মেডিকেল চেকআপের জন্য অফিস থেকে আগে বের হওয়ার অনুমতি চাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। যেহেতু চিকিৎসকদের চেম্বার বা হাসপাতালের শিডিউল সাধারণত অফিসের কর্মঘণ্টার ভেতরেই পড়ে, তাই এই ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে তা আগে থেকেই বসকে জানিয়ে রাখা ভালো। যদি নিয়মিত কোনো থেরাপি বা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে বসের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের একটি ফ্লেক্সিবল শিডিউল তৈরি করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যাতে অনুপস্থিতির সময়েও অফিসের কাজ সময়মতো শেষ করা নিশ্চিত করা যায়।

শারীরিক অসুস্থতার বাইরেও পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি বা ফ্যামিলি ইমার্জেন্সি অফিস থেকে আগে ছুটি নেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। আপনি যদি একজন অভিভাবক বা পরিবারের মূল ব্যক্তি হন, তবে সন্তানের আকস্মিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের তাৎক্ষণিক দেখাশোনার প্রয়োজনে আপনার দ্রুত বাড়ি ফেরাটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়োগকর্তা বা বসকে বিষয়টি অবহিত করা উচিত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আপনি আবার কবে থেকে নিয়মিত অফিসে ফিরবেন, সেই আপডেটও জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

তবে শুধু পরিবারের সদস্য নয়, নিজের ঘরবাড়ির কোনো আকস্মিক বড় ক্ষয়ক্ষতি, চুরি বা নিরাপত্তাজনিত সংকট কিংবা কোনো জরুরি মেরামত কাজের জন্য টেকনিশিয়ানের উপস্থিতির প্রয়োজন হলেও অফিস থেকে আগে বের হওয়া যায়। এই ধরনের হোম ইমার্জেন্সির ক্ষেত্রে বসের কাছে সব সময় সৎ থাকা উচিত, কারণ সততা বজায় রাখলে পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে আপনার প্রতি কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস ও মনোযোগ ধরে রাখা অনেক সহজ হয়।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা উৎসবের প্রস্তুতির জন্য অফিস থেকে আগে বের হওয়ার রীতি বিশ্বজুড়েই প্রচলিত। অধিকাংশ নিয়োগকর্তাই কর্মীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ধরনের ছুটি দিয়ে থাকেন এবং অনেক দেশে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

কোনো বড় ধর্মীয় উৎসবের আগে যদি আপনার প্রস্তুতির জন্য ছুটির প্রয়োজন হয়, তবে উৎসবের দিনক্ষণ আগে থেকেই বসকে জানিয়ে রাখা উচিত, যাতে আপনার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ আপনার দায়িত্ব পালন করতে পারে।

সর্বশেষ যে কারণে আপনি অফিস থেকে আগে বের হতে পারেন, তা হলো অফিসের নিজস্ব কাজ বা পেশাগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। কোনো ক্লায়েন্ট মিটিং, ব্যবসায়িক সেমিনার কিংবা অফিসের বাইরে কোনো ট্রেনিং বা কর্মশালা থাকলে কর্তৃপক্ষ অনেক সময় যানজট এড়াতে আগে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। যদি এটি আপনার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের কোনো প্রশিক্ষণও হয়ে থাকে, তবে সেটি আপনার বর্তমান কাজের দক্ষতা ও প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে কীভাবে সাহায্য করবে—তা বসকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বললে যেকোনো প্রতিষ্ঠানই আনন্দের সঙ্গে আপনাকে আগে যাওয়ার অনুমতি দেবে।

তথ্যসূত্র: ইনডিড