অসাবধানতাবশত খুব গরম চা, কফি, দুধ বা গরম পানি খেয়ে ফেললে মুখ বা জিভ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময় তাড়াহুড়া করে পানীয় খাওয়ার সময় গরম তরল গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, ফলে মুখের পাশাপাশি খাদ্যনালি বা গলার ভেতরেও আঘাত লাগতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব আঘাত সাময়িক হলেও, কিছু পরিস্থিতিতে তা গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই এমন ঘটনা কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
গরম পানীয় কীভাবে ক্ষতি করতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম পানীয় মুখ, জিহ্বা, গলা এবং খাদ্যনালীর নরম টিস্যুকে পুড়িয়ে দিতে পারে। বাইরে থেকে তেমন কোনো ক্ষত দেখা না গেলেও ভেতরের অংশে প্রদাহ বা পোড়া তৈরি হতে পারে। এর ফলে ব্যথা, গিলতে অসুবিধা, গলা জ্বালাপোড়া বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
যদি পানীয়টির তাপমাত্রা খুব বেশি হয়, তাহলে আঘাত আরও গভীর হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কেন গলার ফোলাভাব বিপজ্জনক?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে লারিঞ্জিয়াল ইডিমা নামে একটি অবস্থা রয়েছে, যেখানে গলার ভেতরের অংশ, বিশেষ করে ল্যারিঙ্কস বা স্বরযন্ত্র ফুলে যেতে পারে।
এই ফোলাভাব যদি বেশি হয়, তাহলে শ্বাসনালির পথ সরু হয়ে যেতে পারে। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট, শ্বাসের সময় অস্বাভাবিক শব্দ, কথা বলতে সমস্যা বা গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এমন পরিস্থিতি বিরল, তবে এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
খাদ্যনালিতেও হতে পারে আঘাত
খুব গরম পানীয় খাদ্যনালির ভেতরের আবরণেও ক্ষতি করতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা, গিলতে সমস্যা বা কখনো কখনো রক্তক্ষরণও হতে পারে। যদি রক্তবমি, কালো রঙের মল বা তীব্র বুকব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তা গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা না করা
অতিরিক্ত গরম পানীয় খাওয়ার পর নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি-
- গিলতে তীব্র ব্যথা বা অসুবিধা
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া
- কণ্ঠস্বর হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
- রক্তবমি বা কাশির সঙ্গে রক্ত আসা
- বুকে তীব্র ব্যথা
- দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
এসব উপসর্গ গুরুতর আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।
দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন
গরম পানীয় পান করার আগে কয়েকটি সহজ অভ্যাস বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
- খুব গরম চা বা কফি বানানোর পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন।
- পান করার আগে ছোট একটি চুমুক দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।
- হাঁটতে হাঁটতে বা তাড়াহুড়ো করে গরম পানীয় পান না করা।
- গাড়িতে চলার সময় বা হঠাৎ ধাক্কা লাগতে পারে এমন পরিস্থিতিতে গরম পানীয় হাতে নিয়ে সতর্ক থাকুন।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় পেঁপে পাতার রস, বিশ্বাস না বিজ্ঞান?
সচেতনতা সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
অতিরিক্ত গরম পানীয় থেকে গুরুতর জটিলতা খুবই বিরল হলেও এমন ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই মুখ বা গলা পুড়ে গেলে সেটিকে সাধারণ ঘটনা ভেবে অবহেলা না করে উপসর্গের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু রোগীর জন্য যেসব ফল ও খাবার বেশি উপকারী
বাইরে তেমন কোনো পোড়ার দাগ না থাকলেও ভেতরের টিস্যুতে আঘাত থাকতে পারে। তাই গরম পানীয় খাওয়ার পর অস্বাভাবিক ব্যথা, গিলতে সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন, হেলথলাইন, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই








