মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের মাত্র একদিনের মাথায় ধসে পড়েছে। নতুন নির্মিত রাস্তার এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের আওতায় গালা ইউনিয়নের কলতা ভক্তির বাড়ি থেকে বিজয়নগর বেপারীপাড়া পর্যন্ত ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের জন্য তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন গালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মানিক খান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থবছরের শেষ সময়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে নির্মাণকাজে মান বজায় রাখা হয়নি। প্রয়োজনীয় ভিত্তি প্রস্তুত না করেই নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়। ফলে নির্মাণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিটকা-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থেকে কলতা ভক্তির বাড়ি ব্রিজ হয়ে বিজয়নগর বেপারীপাড়া পর্যন্ত নির্মিত ইটের সলিং রাস্তাটি দেখে নতুন নির্মাণ বলে বোঝার উপায় নেই। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট সরে গেছে, কোথাও কোথাও ইট উঠে পড়ে রয়েছে। ভক্তির বাড়ি ব্রিজ থেকে বেপারীপাড়ার দিকে প্রবেশমুখেই প্রায় ১০ ফুট অংশ ধসে গেছে। রাস্তার দুই পাশের ইট খুলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কলতা বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাস্তাটা করার পরেই বৃষ্টি হয়েছে। এক বৃষ্টিতেই রাস্তাটা ভেঙে গেছে। দেখেই বোঝা যায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে। ইটগুলোও নিম্নমানের দিয়েছে। মনে হয় না রাস্তাটা বেশি দিন টিকবে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই রাস্তাটা একেবারে ভেঙে যাবে।’
কলতা গ্রামের বাসিন্দা কিসমত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাস্তার নিচে ও সাইটে কোনো মাটি না দেওয়ায় এমন সমস্যা হয়েছে। ইট দেখেও বোঝা যাচ্ছে এগুলো ভালো না।’

রাজিব চৌধুরী নামের আরেকজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একদিনের বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একদমই নিম্নমানের কাজ হয়েছে।
এ বিষয়ে গালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক খান জাগো নিউজকে বলেন, শুনেছি রাস্তাটা ভেঙে গেছে। মিস্ত্রিদের বলেছি রাস্তাটা ঠিক করে দিতে। ভালো মানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তাটি ঠিক করে দিতে বলা হয়েছে। তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
মো. সজল আলী/এসআর/এএসএম








