চাকরির নিয়োগপত্র এবং অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে স্পষ্ট ধারণা চাওয়ায় এক তরুণীকে শেষ পর্যন্ত চাকরিই হারাতে হলো। এমন স্পষ্ট কথা বলার ‘অপরাধে’ প্রতিষ্ঠানটি ওই তরুণীর চাকরির প্রস্তাব বা অফার লেটার বাতিল করে দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের দিল্লির একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানে (আর্কিটেকচার ফার্ম) ঘটেছে এই ঘটনা।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ওই প্রতিষ্ঠান।
ওই নারী স্থপতির স্বামী ‘নিয়োগপত্র এবং স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা চাওয়া কি অপরাধ?’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি কোম্পানির সঙ্গে তার স্ত্রীর ইমেইল কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
‘সবাই বলেছিল পাগলামি’ / সরকারি চাকরি ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি, কয়েক বছরেই ভাগ্যবদল!
ওই ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রী দিল্লির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং স্থপতি পদের জন্য সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। পরে একটি কোম্পানি তাকে পূর্ণকালীন পদের জন্য চূড়ান্ত করে। বেতন তার প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হলেও তিনি চাকরি করতে রাজি হন।
কিন্তু আনুষ্ঠানিক নিয়ম মেনে কোনো অফার লেটার দেওয়ার বদলে কোম্পানিটি তাকে কেবল একটি ইমেইল পাঠায়। সেখানে তাকে কয়েকদিন পর থেকেই কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, সপ্তাহে পাঁচদিন এবং প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে কাজ করার কথা বলা হয়। এমনকি প্রয়োজনে ছুটির দিনেও বাসা থেকে কাজ করার শর্ত দেওয়া হয়।
অফার লেটার চাইতেই চাকরি বাতিল
ওই তরুণী জানান, তিনি চাকরি করতে আগ্রহী ছিলেন। তবে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র চান। সেই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক নয় ঘণ্টা কাজ এবং শুধু জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনে কাজ করার অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন রবিন খুদা?
এই অনুরোধের পর ওই কোম্পানির মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ একটি ইমেইল পাঠিয়ে তার চাকরির প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয়। ইমেইলে বলা হয়, কর্মঘণ্টা এবং অন্যান্য প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনার পর এটি স্পষ্ট যে, তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই নারীর কাজের ধরন মিলছে না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে এই নিয়োগ বাতিল করা হলো।
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
চাকরি হারানোর পর ওই তরুণী কোম্পানিকে পাল্টা ইমেইল পাঠান। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনো বাড়তি সুযোগ বা সুবিধা চাননি। বরং তিনি শুধু কর্মঘণ্টা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা চেয়েছিলেন, যা প্রচলিত শ্রম আইনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি আরও লেখেন, ওএসএইচ কোড বা শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া একটি চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ছাড়াই তাকে অন্যান্য সব কাজ বন্ধ করতে বলা হচ্ছিল, যা মোটেও পেশাদার আচরণ নয়।
আরও পড়ুন
অফিসের চাপ ভালো লাগে না / আইটির চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালান তরুণী, মাসে আয় ৬০ হাজার
নেট দুনিয়ায় নিন্দার ঝড়
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা ওই তরুণীর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সেই কোম্পানির নাম প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ওই কোম্পানি এমন কাউকে খুঁজছিল যাকে তারা ইচ্ছামতো খাটাতে পারবে। আপনি একটি বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ভারতের অনেক কর্মক্ষেত্রই এখন কর্মীদের জন্য এমন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। কোম্পানির নাম প্রকাশ করা উচিত, যাতে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/








