জাপানে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অফিসে পুরুষদের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে নতুন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজধানী টোকিওতে পুরুষ কর্মীদের ফুল প্যান্ট ছেড়ে হাফপ্যান্ট পরে অফিসে যেতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত তৈরি হয়েছে।

টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে গত এপ্রিলে ‘টোকিও কুল বিজ’ নামে এক উদ্যোগ চালু করেন। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং স্বস্তি নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সেখানে স্যুট-টাই ছেড়ে ক্যাজুয়াল টি-শার্ট, স্নিকার্স ও হাফপ্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

‘অফিসে কর্মঘণ্টা জানতে চাওয়া কি অপরাধ?’

উদ্যোগটি চালুর কয়েক মাস পর অফিসে হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে শুরু হয়েছে হট্টগোল। অনেক পুরুষ কর্মী বিষয়টিকে আরামদায়ক বললেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারী কর্মীরা। তাদের মতে, হাফপ্যান্ট পরা পুরুষ সহকর্মীদের পায়ের উন্মুক্ত পশম দেখা বিরক্তিকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুনেহারা’ বা ‘লেগ হেয়ার হ্যারাসমেন্ট’।

নারী কর্মীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এটি তাদের জন্য বৈষম্যমূলক। কারণ তাদের এখনো অফিসে পেশাদার পোশাক ও টাইটস পরতে হয়। গরিলা ক্লিনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অফিসে হাফপ্যান্ট পরার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

‘সবাই বলেছিল পাগলামি’ / সরকারি চাকরি ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি, কয়েক বছরেই ভাগ্যবদল!

সামাজিক অস্বস্তি এড়াতে এখন অনেক জাপানি পুরুষ লেজার ক্লিনিকের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অফিসে হাফপ্যান্ট পরার আগে তারা পায়ের পশম তুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকে এখন একে সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

জাপানে তীব্র তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সাল থেকেই গরমে সুতি হালকা পোশাক পরার প্রচার চালাচ্ছে দেশটি। তবে আবহাওয়া অফিসের মতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ও চরম আর্দ্রতার কারণে দিন দিন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি গরমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে পোশাকে স্বস্তি আনতেই এই চেষ্টা বলে জানিয়েছে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার। তবে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়া পর্যন্ত হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

সূত্র: বিবিসি
কেএএ/