আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর রেফারিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ইংলিশ সমর্থকদের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, বিশ্বকাপে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড দেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিতর্কের শুরু। প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি জোয়াও পিনেইরো। তবে পারেদেসের আবেদনের পর ভিএআর পর্যালোচনা করা হয়।
রিপ্লেতে দেখা যায় এমবোলোকে ফাউল করেননি পারেদেস। এরপর মাঝমাঠের এই ফুটবলারের হলুদ কার্ড বাতিল করেন রেফারি। একই ঘটনায় এমবোলোকেই উল্টো সিমুলেশন বা ফাউলের অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। সেটি ছিল ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এমবোলোকে।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিনও রেফারিং নিয়ে সমালোচনা করেন।
এরপর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে থাকে। প্রতিবেদনে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, ইংলিশ সমর্থকদের একটি অংশের দাবি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রেফারির সিদ্ধান্ত থেকে সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য সেমিফাইনাল আগেই ঠিক করা বা পাতানো হয়েছে।
সমালোচনার অংশ হিসেবে সমর্থকেরা আগের কিছু সিদ্ধান্তও সামনে আনছেন। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে পাওয়া পেনাল্টির সঙ্গে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ডিড স্পেন্সের একটি ঘটনার তুলনা করে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিএআরের নতুন নিয়মের প্রয়োগ নিয়েও সমালোচনা করছেন ইংলিশ সমর্থকেরা।
তবে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামী ১৫ জুলাই রাতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে রেফারিং নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন উত্তেজনা ও চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।








