২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। এই সাফল্যের কারণেই টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত বিদায় নিতে হলো ফ্রান্সের দুই শীর্ষ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও ক্লেমঁ তুরপাঁকে।
ফিফার প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, যে দেশগুলো এখনো শিরোপার লড়াইয়ে রয়েছে, সেই দেশগুলোর রেফারিরা আর সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কিংবা ফাইনালে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
একই কারণে সেমিফাইনালে ওঠা অন্য তিন দেশ—আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ডের রেফারিরাও বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠের রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন
রেফারিকে মেসির কড়া বার্তা, ‘আমাকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন’
তবে ফ্রান্সের জেরোম ব্রিসার্দের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি শুরু থেকেই শুধুমাত্র ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত ভিএআর কক্ষে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তার জন্য খোলা থাকছে।
সর্বশেষ রেফারি তালিকা প্রকাশের পর এখন মাত্র ১৩ জন রেফারি বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার দৌড়ে আছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের দায়িত্ব পাওয়া সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনও।
রেফারিং নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের একটি ছিল আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচ। সেই ম্যাচে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মিশরের খেলোয়াড়দের দাবি ছিল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অন্তত দুটি ঘটনায় পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল। এছাড়া কয়েকটি কঠোর ট্যাকলের ক্ষেত্রেও হলুদ বা লাল কার্ড না দেখানো এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন
স্পেন-ফ্রান্স সেমিফাইনালে রেফারি এল সালভাদরের ইভান বার্টন
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকেও অভিযোগ ছিল, ম্যাচের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষেও গেছে এবং রেফারি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক খেলোয়াড়, বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে রেফারির পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়।
যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে কোনো মন্তব্য বা তদন্তের ঘোষণা দেয়নি, তবু নকআউট পর্বে রেফারিংয়ের মান নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি।
আরও পড়ুন
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারির পক্ষে অবস্থান নিলেন কলিনা
বিশ্বকাপ এখন শেষ চারের লড়াইয়ে পৌঁছে গেছে। ফলে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে কোন রেফারি দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়েও ফুটবল অঙ্গনে কৌতূহল তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিংও যে শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এবারের বিশ্বকাপ তারও একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
আরআর/আইএইচএস/এমএমকে








