বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নরকম গল্প। কারণ, ইন্টার মিয়ামির মালিক ডেভিড বেকহ্যামকে এবার দাঁড়াতে হচ্ছে নিজের ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির বিপক্ষে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা এই পরিস্থিতিকে প্রতীকীভাবে ‘মেসির সঙ্গে বেকহ্যামের বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে বাস্তবে এটি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নয়, বরং জাতীয় দল ও দেশের প্রতি আনুগত্যের বিষয়।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেকহ্যাম বরাবরের মতোই নিজের দেশের সমর্থন করবেন। অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন।
আরও পড়ুন
রক্তাক্ত মেসি বরং বেশি শক্তিশালী
বিশ্বকাপজুড়ে মেসির খেলা কাছ থেকে অনুসরণ করেছেন বেকহ্যাম। তিনি কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছেন। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর ইন্টার মায়ামি অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়ে বেকহ্যাম বলেছিলেন, ‘মেসি খুবই বিশেষ একজন মানুষ। শুধু মাঠে যা করে, তা নয়; মাঠের বাইরের মানুষ হিসেবেও সে অসাধারণ।’
তাই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল বেকহ্যাম ও মেসির সম্পর্ককে এক রাতের জন্য দুই মেরুতে দাঁড় করিয়েছে।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি যখন ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন, তখন শুধু একজন ফুটবলারই আসেননি; বদলে যায় পুরো ক্লাবের পরিচয়। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) বেকহ্যামের দীর্ঘদিনের প্রকল্পকে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে রূপ দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আরও পড়ুন
অনুশীলনে নেই মেসি, বাড়ছে আর্জেন্টিনার দুশ্চিন্তা
মেসির নেতৃত্বেই ইন্টার মিয়ামি ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জেতে লিগস কাপ। এরপর আসে সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপ। ফলে বেকহ্যাম-মেসি জুটি এখন ক্লাবটির সাফল্যের মূল ভিত্তি।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথের ইতিহাস বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ, ১৯৮৬ সালে -এর বিতর্কিত 'হাত দিয়ে করা' গোল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে বেকহ্যামের লাল কার্ড- এসব ঘটনাই দুই দেশের ফুটবল বৈরিতাকে আরও গভীর করেছে।
এবার সেই ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। অনেকের বিশ্বাস, এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই প্রতিটি নকআউট ম্যাচই যেন তার ক্যারিয়ারের শেষ মহাকাব্যের আরেকটি অধ্যায়।
আরও পড়ুন
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শতভাগ সাফল্যে দুশ্চিন্তায় ইংল্যান্ড?
সেমিফাইনালে তাই একদিকে থাকবে ইংল্যান্ডের প্রতি বেকহ্যামের আবেগ, অন্যদিকে থাকবে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। ক্লাবে তারা একই পরিবারের অংশ হলেও, বিশ্বকাপের এই এক রাতে দুজন থাকবেন সম্পূর্ণ ভিন্ন শিবিরে।
আরআর/আইএইচএস/এমএমকে








