আটলান্টায় মাঠে নামলেই এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নতুন এক রেকর্ড গড়বেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক হিসেবে উবালদো ফিয়োলকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি ম্যাচ খেলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ফিয়োলের রেকর্ড স্পর্শ করেন মার দেল প্লাতায় জন্ম নেওয়া এই গোলরক্ষক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলে সেই যৌথ রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেবেন তিনি।

এই মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে মার্তিনেজ প্রথমে ছাড়িয়ে যান সার্জিও রোমেরোকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ ও ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবকটি ম্যাচ খেলেছিলেন রোমেরো, মোট ম্যাচ ছিল ১২টি।

এরপর তিনি তিনটি বিশ্বকাপে খেলা ফিয়োলের ১৩ ম্যাচের রেকর্ডে ভাগ বসান। ফিয়োল ১৯৭৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে একটি, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে সাতটি এবং ১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্তিনেজ দুজনকেই ছাড়িয়ে যাবেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে, তবে ফিয়োল ও মার্তিনেজের পর্যায়ে কেউ পৌঁছাতে পারেননি। তাদের পরেই আছেন ১২ ম্যাচ খেলা রোমেরো। এরপর ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো ও ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে মোট ৯টি ম্যাচ খেলা নেরি পুম্পিদো।

এরপর রয়েছেন ছয়টি করে ম্যাচ খেলা সার্জিও গোয়কোচেয়া ও আন্তোনিও রোমা এবং পাঁচটি করে ম্যাচ খেলা রোবের্তো আব্বোন্দানসিয়েরি ও দানিয়েল কার্নেভালি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে অন্তত কয়েক মিনিট করে খেলেছেন ১৯ জন গোলরক্ষক।

মার্তিনেজ এমন এক সময় এই রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছেন, যখন আর্জেন্টাইন ফুটবলে তার অবস্থান নিয়ে ফিয়োল ও পুম্পিদোর সঙ্গে তুলনা চলছে।

বিশ্বকাপজয়ী এই দুই কিংবদন্তি গোলরক্ষকের পাশে তার নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ আসরে অন্তত আটটি ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা পাওয়ায় পরিসংখ্যানও এখন তার পক্ষেই কথা বলতে শুরু করেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মার্তিনেজের জন্য আরেকটি বিশেষ তাৎপর্যও বহন করছে। ২০১০ সাল থেকে তিনি ইংল্যান্ডে বসবাস করেছেন। এবার তাকে সেই দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে, যে দেশ তাকে আশ্রয় দিয়েছিল আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলের গোলরক্ষক হয়ে ওঠার আগে।

আরএএইচইউএল/এমএমআর