বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড। ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরপুর এই লড়াইকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ও বর্তমান বিশ্লেষক ফেলিপে মেলো।
স্পোরটিভির Seleção Copa অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা জিতেছে বলে আমি খুশি নই। কিন্তু ওরাই ছিল ভালো দল। আর ফুটবলের ভালোর জন্য আমি আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচটাই দেখতে চেয়েছিলাম।’
বিশ্বকাপে এটি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল একটি সেমিফাইনালে।
দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি কিংবদন্তি গোল, একটি মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায়, আরেকটি বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ — এর সৌজন্যে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দল ২-২ গোলে ড্র করলেও টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তিনবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। ১৯৬২ সালের গ্রুপ পর্বে ৩-১, ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ১-০ এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।
১৯৬৬ সালের সেই ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আন্তোনিও রাট্তিনের বিতর্কিত বহিষ্কারের কারণে। ওই ঘটনার পরই ফিফা ১৯৭০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হলুদ ও লাল কার্ড প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাট্তিন শনিবার ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।
ফেলিপে মেলো আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনা যোগ্য দল হিসেবেই সেমিফাইনালে উঠেছে। তবে আমার মতে, আজকের ম্যাচটিই ছিল তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। তবুও তারা জিতেছে। সবকিছু যেন তাদের পক্ষেই যাচ্ছে। কঠিন সময়ে তারা সমতার গোল হজম করলো। তারপর লাল কার্ড পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিল। নিয়ম তো নিয়মই, কিন্তু সেখানেও তারা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে। এখন দেখা যাক আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে অসাধারণ একটি লড়াই।’
আরআর/আইএন








