বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ফিফা—এমন অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার উঠেছে পক্ষপাতের অভিযোগ। তবে এসব আলোচনাকে একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর দাবি, ভিত্তিহীন এসব বিতর্ক থেকে নিজেকে এবং দলকে দূরেই রেখেছেন তিনি।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফিফার পক্ষপাত নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে স্ক্যালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ নিয়ে তাঁর কোনো আগ্রহই নেই।
আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘সোজা কথা হলো, আমি সোশ্যাল মিডিয়া পড়ি না। আপনি যদি ওদিকে না তাকান, তবে এসবের কিছুই জানতে পারবেন না। যে কেউ যেকোনো কিছু পোস্ট করে দিতে পারে, যার কোনো সত্যতা বা ভিত্তি থাকে না। একটা ছোট বিষয়কে টেনে বিশাল করে ফেলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিক যেমন আছে, তেমনই এই ধরনের সমস্যাও আছে—যেখানে কেউ একটা কিছু পোস্ট করল, সেটা ভাইরাল হয়ে গেল এবং চোখের পলকে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। আমরা স্রেফ ওসবের দিকে তাকাই না।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগানের লাল কার্ড এবং আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির একই ধরনের একটি ঘটনায় কার্ড না দেখানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, আর্জেন্টিনা সুবিধা পাচ্ছে।
আবার শিরোপা ধরে রাখার পথটা আর্জেন্টিনার জন্য খুব একটা কঠিন নয়, যদি না কোনো অঘটন ঘটে। তাই অনেকের দাবি ফিফার কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে এসব আলোচনায় নিজেকে জড়াতে চান না স্কালোনি। যদিও ফাইনালে ওঠার পথটা দীর্ঘই মনে হচ্ছে তাঁর, ‘দিনশেষে... এখানে কেবল একটা ম্যাচ বেড়েছে, এর চেয়ে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন কিন্তু হয়নি। এটা সত্যি যে ফাইনালে পৌঁছাতে টুর্নামেন্টটা এখন বেশ দীর্ঘ মনে হয়, তবে যে দলগুলো টিকে আছে তাদের নিয়েই সবাই আলোচনা করছে। ফ্রান্স দারুণ খেলছে, স্পেনও তাই। মেক্সিকো ইকুয়েডরের বিপক্ষে দারুণ ম্যাচ খেলেছে, কলম্বিয়াও ভালো করছে। এই দলগুলোই শিরোপার জন্য লড়াই করবে, তবে ফ্রান্স যা করছে তা অবশ্যই মাথায় রাখার মতো। ওরা সত্যিই অসাধারণ একটা দল।’
আর্জেন্টিনা কোচের পুরো মনোযোগ এখন কেপ ভার্দেকে ঘিরে। একাদশও ঠিক করে ফেলেছেন তিনি, ‘আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, তবে সবার আগে খেলোয়াড়দের তা জানাব। লেফট-ব্যাক পজিশন? মেদিনা খেলেছে এবং প্রমাণ করেছে যে সে পুরোপুরি ফিট। ওদিকে নিকোও (তালিয়াফিকো) সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। এটাই আসল কথা। বিশ্বকাপের শুরুতে তার যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো এখন কেটে গেছে এবং এটাই সবচেয়ে স্বস্তির খবর।’
বিশ্বকাপের দলগুলোর অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গরম। দিনে–দুপুরেও ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাতে নাখোশ হলেও অজুহাত দাঁড় করাতে চান না স্কালোনি, ‘আমি জানি না এটা খেলায় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না। বিষয়টা বেশ স্ববিরোধী, কারণ এর আগে আমরা দুপুর দুটোয় খেলেছি আর এখন মায়ামিতে খেলব সন্ধ্যা ৬টায়। তবে পরিস্থিতি কেবল আর্জেন্টিনার জন্য নয়, দুই দলের জন্যই সমান। খেলাটা রাতে হলে ভালো হতো, কারণ গরমটা সত্যিই ভয়াবহ এবং এর ফলে খেলার নান্দনিকতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে ম্যাচটি আমাদের যেভাবে খেলা উচিত, সেভাবেই খেলব; গরমের কারণে আমাদের কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’








