গত এক দশকে বরফ দিয়ে ঢাকা আর্কটিক অঞ্চলকে কৌশলগত শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিকের সমুদ্রে বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে বিশাল তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে অঞ্চলটি এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে আর্কটিকে বাণিজ্যিক ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিপরীতে, কয়েক দশকের অবক্ষয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন হারানো সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
রাশিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি
স্যাটেলাইট চিত্রে রাশিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল, সম্প্রসারিত আর্কটিক বিমানঘাঁটি এবং বিশ্বের বৃহত্তম আইসব্রেকার (বরফ ভাঙার জাহাজ) বহরের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে রাশিয়া পুরো আর্কটিকজুড়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, একই চিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো আইসব্রেকার, আলাস্কার পরিত্যক্ত সামরিক স্থাপনা এবং গ্রিনল্যান্ডে তুলনামূলক ছোট সামরিক উপস্থিতি দেখা যায়।
ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
স্যাটেলাইট চিত্র, তাপীয় (থার্মাল) ইমেজিং, জাহাজ চলাচলের তথ্য এবং সামরিক মানচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজনেস ইনসাইডার দেখিয়েছে, আর্কটিকে শক্তির ভারসাম্য দ্রুত রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। এই ব্যবধান আরও বাড়ার আগেই তা কমিয়ে আনতে ওয়াশিংটন এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাশিয়ার ভৌগোলিক সুবিধা
রাশিয়ার আর্কটিক উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ হাজার মাইল, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে দেশটি আর্কটিকজুড়ে বিস্তৃত এলাকায় বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং নৌপথ উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে প্রায় তিন ডজন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে যা দেশটির জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আর্কটিক এখন রাশিয়ার জ্বালানি কৌশল এবং সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
কেএম








