পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের লোকসভা সদস্য অভিষেক ব্যানার্জীর দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের দাবি, অনুমোদিত ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা (বিল্ডিং প্ল্যান) ছাড়া ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং একাধিক নোটিশের জবাব না দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। এ সময় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পর ভাঙার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন প্রথম নোটিশ এবং ৭ জুলাই দ্বিতীয় নোটিশ পাঠিয়ে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জীকে ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো নোটিশেরই জবাব দেওয়া হয়নি এবং নির্ধারিত দিনেও কেউ হাজির হননি। এরপর প্রশাসন ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ ও সহিংস রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছে।
দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি এরই মধ্যে আদালতে বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু হয়েছে এবং এ ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।
সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ৮০টি আসন পায়, আর বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর থেকেই দলটির ভেতরে ভাঙন শুরু হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রিতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে একাধিক বিধায়ক বিদ্রোহ করেন। পাশাপাশি অন্তত ২০ জন লোকসভা সদস্য এবং কয়েকজন রাজ্যসভার সদস্যও দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন।
ডিডি/এমএসএম








