বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও আলোচনায় এসেছে সোনা। বিশ্লেষকদের মতে, অনেকেই সম্পদের নিরাপত্তা, মূল্য সংরক্ষণ এবং সংকটকালে আর্থিক সুরক্ষার জন্য সোনা কিনে থাকেন।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, কাগুজে মুদ্রা বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মূল্য কমে গেলে সোনা সাধারণত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তাই শেয়ারবাজার বা মুদ্রার অস্থিরতার সময় অনেক বিনিয়োগকারী সোনার দিকে ঝুঁকেন।

সোনার আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি একটি বাস্তব বা স্পর্শযোগ্য সম্পদ। শেয়ার, বন্ড বা ডিজিটাল সম্পদের মতো এটি সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়ে না। প্রয়োজন হলে সহজেই এটি সংরক্ষণ, বহন কিংবা বিক্রি করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে সম্পদ সংরক্ষণের উপায় হিসেবেও সোনায় বিনিয়োগ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা সংরক্ষণ করে আসছে, যা সোনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি সহজেই নগদ অর্থে রূপান্তর করা সম্ভব। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সোনা কেনাবেচার বাজার রয়েছে, ফলে এটি একটি উচ্চ তারল্যসম্পন্ন (লিকুইড) সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বিনিয়োগের আগে ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সূত্র: ইউএস মানি রিজার্ভ

এমএসএম