নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশি আটক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানী দিল্লি।
বুধবারও (২২ জুলাই) এ ইস্যুতে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আভাস মিলেছে। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে সরাসরি সরকারের দিকে আঙুল তুলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ‘লোক কল্যাণ মার্গে’ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে। রাহুলকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। এ সময় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় ৯ ঘণ্টা আটক রাখার পর রাত ৯টার দিকে দুজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান রাহুল গান্ধী। দাবিগুলো হলো- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ওই দিনের দমনপীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এবং দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার।
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “কেন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে? কেন একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা কেন এত ব্যয়বহুল যে সন্তানকে পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে? এগুলো যৌক্তিক প্রশ্ন, আর এই প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়।”
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী আলোচনার পথ থেকে সরে এসে কেবল রাজনীতি করছেন। তিনি বলেন, “সরকার সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু রাহুল গান্ধীর মতো দায়িত্বশীল নেতার নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটা গণতান্ত্রিক নীতিমালার পরিপন্থি।”
একই সুরে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, “সরকার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস সমাধানের পথ না বেছে রাজপথের নাটক বেছে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান তাদের উদ্দেশ্য নয়, রাজনৈতিক শিরোনাম হওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।”
দেশজুড়ে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের এই মুখোমুখি অবস্থান ভারতের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।








