যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। সংবেদনশীল এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চুক্তিটির ঘোষণা খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন সংস্থাগুলো সরাসরি যুক্ত থাকবে। এগুলো সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে সহায়তা করবে। এছাড়া একটি যৌথ সমীক্ষার পর দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পথ সুগম হতে পারে।
আরও পড়ুন
চার মাসে প্রথম হামলা / সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান!
তবে এই চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। আইনপ্রণেতাদের ভয়, রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে অঞ্চলে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য। কিন্তু সূত্র মতে, এই চুক্তিতে আইএইএ’র ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জোরালো তদারকি বা পরিদর্শনের সুযোগ সীমিত থাকবে।
আরও পড়ুন
সৌদির ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা হুথিদের, হুমকিতে তেল সরবরাহ
এই চুক্তির খবর এমন সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা অর্জন করা মানেই অস্ত্র তৈরি নয়। তবে এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা পরবর্তীতে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা বানালে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এপি, ইউএনবি
কেএএ/








