দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও। কিন্তু এই ইস্যুতে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন তাদের অন্যতম মিত্র তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। তার নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের এমন নীরবতা ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নফাঁসের জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় মেনেছে শিক্ষার্থীরা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। অথচ নয় বছর ধরে নিট পরীক্ষার বিরোধিতা করা তামিলনাড়ুর নতুন সরকার এখন নীরব।
আত্মহত্যার পরিসংখ্যান ও বিজয়ের দ্বিমুখী অবস্থান
তামিলনাড়ুতে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ২৬ জন শিক্ষার্থী নিট পরীক্ষার কারণে আত্মহত্যা করেছেন। পরীক্ষার ভয়, অনিয়ম ও ভালো ফলের মানসিক চাপের কারণেই এই নির্মম মৃত্যুগুলো ঘটেছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় বিজয় বারবার নিট বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন আন্দোলনের মুখে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলন চলাকালেই তিনি তার নতুন সিনেমা ‘জন নায়াগন’ (বাংলা অর্থ জননেতা)-এর একটি প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশ করেন। এটি দেখে ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়েছে।
প্রতিবাদী র্যাপার আটক ও রাজনৈতিক উত্তাপ
মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে সচিবালয়ের সামনে নিট বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের চেষ্টা করেন র্যাপার জনপ্রিয় জ্ঞান। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় জ্ঞান ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, সারা দেশ যখন জ্বলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী নীরব কেন?
পরে টিভিকে মন্ত্রী আধব অর্জুনের মাধ্যমে তাঁক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করানো হয়। তবে আন্দোলন নিয়ে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য আসেনি।
অন্যদিতে ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন র্যাপার জ্ঞানের আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে তিনি লেখেন, নিটবিরোধী প্রতিবাদকারীদের অবদমিত করা অনুচিত। তিনি অভিযোগ করেন, নিট পরীক্ষা এখন একটি বড় কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়েছে।
তোপের মুখে বিজয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুনীল কুমার জানান, বিজয় রাজ্য রাজনীতিতেই নজর রাখতে চান। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে তিনি সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলছেন।
তবে শিক্ষাবিদ প্রিন্স গজেন্দ্র বাবু এই অবস্থানকে চরম হতাশাজনক বলছেন। তার মতে, তামিলনাড়ুর ইতিহাস বরাবরই নিটের বিরুদ্ধে ছিল। বিজয়ের এই মৌনতা তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে এখন টিভিকে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করা হচ্ছে। তবে বিজয় শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই সবার নজর।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
কেএএ/








