ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস লিকেজের ঘটনা বাড়ছে। এতে নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। আবাসিক এলাকার জরাজীর্ণ গ্যাসলাইন, অবৈধ সংযোগ এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেনবাড়ি এলাকায় ভবনের দেওয়াল ধসে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে এলাকায় তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান রহমান মুন্না জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। একইসঙ্গে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে তিতাস গ্যাসের জরুরি বিভাগের কর্মীরা এসে রাস্তা খনন করে লিকেজ হওয়া পাইপলাইন সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন

কেরানীগঞ্জে গ্যাসের লাইনে কাজ করার সময় বিস্ফোরণ, ৩ শ্রমিক দগ্ধ

ভুক্তভোগী সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‌‘গতকাল মনিরের বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভেঙে আমার ঘরের ওপর পড়ে। আল্লাহর রহমতে প্রাণে বেঁচে গেছি। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন তৈরির সময় ড্রেনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেওয়াল ধসে গ্যাসলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই সব গ্যাসলাইন পরীক্ষা করা হোক এবং নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধ করা হোক।’

রায়হান রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘রাতে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সময় গ্যাসের গন্ধ পাই। পরে সবাই মিলে বের হয়ে দেখি গ্যাসলাইন লিকেজ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে কল করি এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানাই। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন মেরামতের কাজ চলছে।’

আরও পড়ুন

গভীর নলকূপের পানিতে উঠছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন

তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সাইফুর রহমান বলেন, ‘রাত প্রায় ৩টার দিকে গ্যাসলাইন লিকেজের খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে দেখি লাইনের অবস্থা খুবই খারাপ। পরে জরুরি টিমকে খবর দিলে তারা দ্রুত এসে মেরামতের কাজ শুরু করেন।’

তিনি বলেন, ‘পাশের ভবনের দেওয়াল ধসে পড়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

এর আগে গত জুনের শেষের দিকে নগরের গোলপুকুরপাড় এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিস্ফোরণ ও গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও বমিভাব নিয়ে ৩৯ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তাদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বংশালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দোকান মালিক নিহত

শুধু তাই নয়, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এবং ভালুকা ও ত্রিশালের শিল্পাঞ্চলেও অতীতে গ্যাস সিলিন্ডার ও রাইজার লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অনেক আবাসিক এলাকার গ্যাস সরবরাহ লাইন ও রাইজার দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং মরিচাধরা। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নিম্নমানের পাইপ ও ফিটিংস ব্যবহার করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।’

হোসাইন সুলভ/এসআর/এএসএম