পূর্বে ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও রাইংক্ষ্যং নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ফারুয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এই ইউনিয়নের অন্যতম ফারুয়া বাজারের প্রায় দেড়শ দোকান পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়; পানিতে চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তত্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া ইউনিয়নে। ঢলের পানিতে পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসী মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, রাইংক্ষ্যং নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দুর্গত এলাকায় সরাসরি সরকারি ত্রাণ পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে।
যমুনাছড়ি বম পাড়ার হেডম্যান পালম বম জানান, যমুনাছড়িতে কমপক্ষে ২০ পরিবার এবং দুইটি গির্জা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানির কারণে তারা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও বিবরণ জানা সম্ভব নয়।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, “অবস্থা ভয়াবহ। ভোর রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিতে ফারুয়ার নিম্নাঞ্চলের সব গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। চাইন্দা পাড়া, আলিখিং পাড়া, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর, তক্তানালা দক্ষিন, ওরাছড়ি পুর্ব, ওরাছড়ি পশ্চিম, লত্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি বাঙ্গালী পাড়া, গোয়াইনছড়ি, ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি, যমুনাছড়ি এসব পাড়াসমূহ ডুবে গেছে।”
পানিতে তলিয়ে থাকা গির্জা
পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য শুক্রবার থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে স্রোত অত্যধিক বেশি থাকায় সেখানে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি; আজ শনিবার ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল ও তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করছি।”
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, “পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংক্ষ্যং নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে নদীতে প্রচুর স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। স্রোতের বেগ কিছুটা কমলেই আমরা বড় আকারে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের কাছে রওনা হব।”
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গতরাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।








