রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে। রাইংখ্যং নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাজার, বসতঘর ও সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধির প্রভাবে রাইংখ্যং নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৩ নম্বর ফারুয়া ইউনিয়নে। ঢলের পানিতে পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকানপাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসি মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
রাইংখ্যং নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় সরাসরি সরকারি ত্রাণ পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন বলেন, আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য গতকাল থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে স্রোতের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকায় সেখানে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি; আজ ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল ও তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করছি।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংখ্যং নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মুহূর্তে নদীতে প্রচুর স্রোত থাকায় আমরা জলপথে ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। স্রোতের বেগ কিছুটা কমলেই আমরা বড় আকারে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের কাছে রওনা হব।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গতরাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ১টি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
আবু দারদা খান আরমান/কেএইচকে/এএসএম








