বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনকে ঘিরে কয়েক দিনের টানা উত্তেজনা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলার মধ্যে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে তাকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের একটি অংশ।শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে ‘বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানার এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে তিনি যোগদান করার পর কার্যালয়ে তালা দেওয়া ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তারা বলেন, ‘মব’ সৃষ্টি করে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে হেনস্তা করা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা ডা. মিজানুর রহমান ও শেবাচিমের সাবেক পরিচালক ডা. আজিজ রহিম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ডা. মনিরুজ্জামান আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে এখন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।তবে এর আগে গত ৮ ও ৯ জুলাই চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের অন্য একটি অংশ ডা. মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ডা. মনিরুজ্জামান আন্দোলনবিরোধী অবস্থানে ছিলেন এবং ‘শান্তি সমাবেশে’ অংশ নিয়েছিলেন। ওই পক্ষটি তাঁর নিয়োগ বাতিল অথবা অন্য জেলায় বদলির দাবি জানিয়ে আসছে।সার্বিক বিষয়ে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘আমি সরকারি চাকুরে হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের অনেকেরই অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রশ্নবিদ্ধ।এদিকে পরিচালককে কেন্দ্র করে ড্যাবের ভেতরেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচির কারণে গত কয়েক দিন ধরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন না হলে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।\
রাজনীতি
স্বাস্থ্য পরিচালককে ঘিরে বরিশালে চরম উত্তেজনা

শেয়ার করুন







