যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটিতে (ডব্লিউভিইউ) ‘ওক’ (Woke) বা অতি-উদারপন্থী রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শের বিস্তার ঠেকাতে বিপুল ব্যয়ে একটি নতুন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে আগামী সেমিস্টারে মাত্র একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

‘ওয়াশিংটন সেন্টার ফর সিভিকস, কালচার অ্যান্ড স্টেটস ম্যানশিপ’ নামের এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার জন্য গত বছর অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এই শরৎকালীন সেমিস্টারেই কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্যোগটির তীব্র সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজ্য আইনপ্রণেতা জন উইলিয়ামস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ওয়াচ’-কে বলেন, ‘আমি এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। আমরা এমন একটি প্রোগ্রামের জন্য বিপুল পরিমাণ করদাতার অর্থ বরাদ্দ করেছি, অথচ মাত্র একজন শিক্ষার্থী এর সুবিধা নিচ্ছেন।’

গত বছর কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়ার সময় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গভর্নর প্যাট্রিক মরিসি (রিপাবলিকান) দাবি করেছিলেন, স্কুল-কলেজে ছড়িয়ে পড়া ‘ওক’ মতাদর্শের প্রভাব রুখতে এবং উচ্চশিক্ষাকে তার প্রকৃত উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে নিতে এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে মূলত ক্লাসিক্যাল সাহিত্য ও আমেরিকান পৌরনীতি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।

গভর্নর মরিসি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের শেখাতে চাই কীভাবে চিন্তা করতে হবে, কী চিন্তা করতে হবে তা নয়। আমরা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম যে মূল্যবোধগুলো আমেরিকাকে মহান করে তুলেছে, সেগুলো যেন সততা ও গর্বের সাথে শেখানো হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সেন্টারে অতি-উদারপন্থা, নব্য ডানপন্থী ধারা এবং পশ্চিমা সভ্যতার মতো বিষয়গুলোর ওপর পাঠদান করা হবে।

সেন্টারের সমর্থকেরা অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, ক্লাসগুলো যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কোর্স বা মেজরের ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতে শুরু করবে, তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

এই নতুন কেন্দ্রটি এমন এক সময়ে চালু হচ্ছে যখন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি নিজেই একটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ৪৫ মিলিয়ন (সাড়ে ৪ কোটি) ডলারের বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের ২৮টি একাডেমিক কোর্স বা মেজর পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এর ফলে শত শত শিক্ষক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। এমন একটি ভঙ্গুর আর্থিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ৩০ লাখ ডলারের নতুন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশ আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রিপাবলিকান রাজনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওক’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্ণ ও যৌনতা বিষয়ক বই নিষিদ্ধ করা এবং (জাতি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক) বৈচিত্র্য সম্পর্কিত পাঠ্যক্রম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইওয়া অঙ্গরাজ্যেও কম শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রিপাবলিকান সমর্থিত ‘সেন্টার ফর ইন্টেলেকচুয়াল ফ্রিডম’-এ ক্লাস করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ‘ওক’ বিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করেছে। ফেডারেল তহবিল বন্ধ করার হুমকি দিয়ে তারা শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের নীতি ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করতে চাপ দিচ্ছে। এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বিষাক্ত মতাদর্শের প্রজনন ক্ষেত্র’ বলে আখ্যায়িত করে সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের অংশীদারিত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছেন।