নরওয়েতে শুক্রবার রাত মানেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে টাকো খাওয়ার বিশেষ আয়োজন। দেশটির লাখো পরিবার প্রতি সপ্তাহে এই ঐতিহ্য পালন করে, যা এখন টাকো ফ্রাইডে নামে পরিচিত।
মজার বিষয় হলো, এই খাবারের উৎপত্তি নরওয়েতে নয়। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে উত্তর সাগরে তেল অনুসন্ধান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে অনেক তেল বিশেষজ্ঞ নরওয়েতে আসেন। তাদের হাত ধরেই টেক্স-মেক্স ধাঁচের টাকো প্রথম নরওয়েতে জনপ্রিয় হতে শুরু করে।
পরে একটি সুপারমার্কেট বিদেশি ক্রেতাদের জন্য টাকো ও অন্যান্য টেক্স-মেক্স খাবার আমদানি শুরু করে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন সুপারমার্কেটে টাকো কিট, সস, মসলা ও টাকো শেল সহজলভ্য হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এটি নরওয়েজিয়ানদের সাপ্তাহিক পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
বর্তমানে নরওয়ের প্রায় সব সুপারমার্কেটেই টাকোর উপকরণ পাওয়া যায়। এমনকি দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা টাকোর উপকরণের দাম পর্যবেক্ষণের জন্য টাকো ইনডেক্স চালু করেছে। নরওয়ের ফুটবল তারকা আর্লিং হালান্ডও টাকোকে তার প্রিয় খাবারের একটি বলে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি তার অসাধারণ পারফরমেন্সে ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল। এর পর আরও বেশি আলোচনায় আসেন তিনি।
নরওয়েজিয়ানদের টাকো মূলত শক্ত খোলের ভেতরে গরুর কিমা, পনির, লেটুস, টক দই ও বিভিন্ন সস দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে স্থানীয় স্বাদের কারণে এতে রেইনডিয়ার, মুজ, কড মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারও যোগ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকো নরওয়েতে শুধু একটি খাবার নয়, বরং পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে বসে সময় কাটানোর একটি সাপ্তাহিক উপলক্ষ। তাই এটি এখন নরওয়ের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে অনেক মেক্সিকান এই টাকোকে আসল টাকো মনে করেন না। তাদের মতে, লেটুস, টক দই বা টাকো মসলা দিয়ে তৈরি নানা ধরনের খাবারকে টাকো বলা ঠিক নয়। যদিও নরওয়েজিয়ানরা মনে করেন, এটি আসল টাকোর অনুকরণ নয়, বরং নিজেদের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া একটি নতুন খাদ্য ঐতিহ্য।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম








