শরীয়তপুরে অতিবৃষ্টির কারণে একটি বিশাল চাম্বুল গাছ উপড়ে পড়ে জেলা জজকোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন প্রধান সড়কটিতে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতের এ ঘটনায় জেলা জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের চেম্বার ভেঙে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে দেড় মাস আগেই গাছটিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে সরানোর আবেদন করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা জজকোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ততম একটি সড়ক। এই সড়কটি সদরের আটং এলাকা দিয়ে বের হয়ে ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। সড়কটির জেলা জজকোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘেঁষা স্থানে বেশ কিছু বড় আকারের চাম্বুল গাছ রয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হলে দিনগত মধ্যরাতে হঠাৎ একটি চাম্বুল গাছ উপরে পড়ে। এতে পাশে থাকা জেলা জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুনিরা মিঠুর চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চেম্বারে থাকা অধিকাংশ নথি বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়। এছাড়া গাছটি সড়কে আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় সড়কটি দিয়ে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে সড়কটি গাছটি সরিয়ে নিতে কাজ করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টিতে গাছ উপরে পড়ে যানচলাচল বন্ধ

সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী অটোরিকশাচালক হুমায়ুন বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এখানে এসে শুনলাম গাছটি নাকি গতকাল রাতে পড়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি সরানো হয়নি। যাত্রী নিয়ে খুব দুর্ভাগে পড়লাম।

আইনজীবী মাসুদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই গাছগুলো অপসারণ করতে দেড় মাস আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করেছি। তারা অপসারণ না করে উল্টো এক দপ্তর অন্য দপ্তরের উপর চাপিয়েছিল। আর সেখান থেকে একটি গাছ পড়ে তিন আইনজীবীর চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছটি দিনের বেলা পড়লে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারতো। সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর গাফিলতির কারণে আমাদের আজকের এই দুর্দশা।

জেলা জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুনিরা মিঠু অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বুঝতে পেরেছিলাম এখানের গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বুধবার মধ্যরাতে বৃষ্টির মধ্যে একটি গাছ আমার চেম্বারের উপরে এসে পড়ে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হওয়ার কারণে চেম্বারে সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডকেট ছিলো। সেগুলো অধিকাংশই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ক্ষতিপূরণ চাই। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো এখান থেকে অপসারণ করা হোক।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে পৌরসভা গাছটি সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যেহেতু গাছগুলো সতেজ, তাই চাইলেই সব গাছ হুট করে কাটা সম্ভব না। এখানে যে কমিটি আছে তাদের কথা বলবো। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে যদি গাছগুলো সরানো সিদ্ধান্ত আসে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার অনি/এসজেডএইচ/জেআইএম