মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার সাত দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিবিআই।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জে সিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ৩০ জুন বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা এলাকার বাসিন্দা রহমত আলীর ছেলে সাকিবুল ইসলাম (১৬) অসুস্থ বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরদিন ভোরে সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা-বাংলাবাজার সড়কের পাশের একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাত্রীবেশে থাকা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর মাদ্রাসা গেট এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, আসাদ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাভারের একটি আবাসিক হোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক। ঘটনার দিন হেমায়েতপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে মিতরা এলাকায় সাকিবুলের অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন তিনি।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙা সড়কে অটোরিকশার ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশের একটি পাটখেতে ধস্তাধস্তির সময় আসাদ সাকিবুলকে মারধর করে মুখ কাদায় চেপে ধরেন এবং ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে শ্বাসরোধে সাকিবুলের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে সিবিআই।

হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসাদের একটি স্যান্ডেল সেখানে পড়ে যায় বলে জানিয়েছে সিবিআই। সংস্থাটি বলেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। নিহতের অটোরিকশাটিও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান।