ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে একই পরিবারের দুই সদস্যকে নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চুরির নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী অনুকূল্প মিশ্র এবং তাঁর ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্র। মন্দির তহবিলের অর্থ চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অযোধ্যার বাসাভা গ্রামে অনুকূল্প মিশ্রের বাড়িতে গিয়ে তাঁর জীবনযাত্রার নাটকীয় পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর চিত্র পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, কিছুদিন আগেও এই পরিবারটি তীব্র আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে দিন পার করছিল। কিন্তু বর্তমানে পুরো বাসাভা গ্রামের মধ্যে তাঁদের বাড়িটিই সবচেয়ে বিলাসবহুল ও দৃষ্টিনন্দন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অতি সম্প্রতি অনুকূল্প গ্রামের বাইরে একটি বিশাল ফার্মহাউস নির্মাণ করেছেন। এছাড়া গত বছর অযোধ্যা শহরে প্রায় ৬৫ লাখ রুপি মূল্যের একটি বাড়িও কিনেছেন তিনি। তাঁর নিজের একটি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি নতুন একটি স্করপিও এসইউভি গাড়ি বুকিং করার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। তবে হঠাৎ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মনে অনেক আগে থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধছিল।
অনুকূল্প মিশ্রের দাদা রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ৩০ এপ্রিল অনুকূল্প তাঁর গ্রামে সাত দিনব্যাপী একটি জমকালো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, রাম মন্দির ট্রাস্টের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, অযোধ্যার মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েত সভাপতির প্রতিনিধিসহ বহু ভিআইপি ওই অনুষ্ঠানে অনুকূল্পের পাশে ছিলেন। সাধারণ একটি ব্যাংকের আউটসোর্সিং কর্মী হয়ে অনুকূল্প কীভাবে এত বড় এবং ব্যয়বহুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনুকূল্প মিশ্র একটি বেসরকারি ব্যাংকের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে তিনি রাম মন্দিরের দানবাক্সের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী গোনার বিশেষ দলটিতে যুক্ত হতে সক্ষম হন।
কাজে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অনুকূল্প ব্যাংকের আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমে তাঁর ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রকেও একই দলে নিয়োগ দেন। এরপর দুজনে মিলে দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে দানবাক্সের অর্থ সরিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
লবকুশ মিশ্র অযোধ্যার রুদাউলি এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তবে তিনিও সম্প্রতি লাখ রুপির বেশি মূল্যের একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তেরই ব্যাংক হিসাব, অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং সাম্প্রতিক সব আর্থিক লেনদেনের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তছরূপ হওয়া অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে এবং কার কার কাছে পাঠানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।








