ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী কন্যাসন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর জানা গেল, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই ভূমিকম্পে। দেশটির শীর্ষ ফুটবল ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা এই তথ্য জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ইয়ারাকুই অঞ্চলে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হন ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেলা এবং তাঁদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহো। ভূমিকম্পে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ার পর পরিবারটিকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল হৃদয়বিদারক এ খবর নিশ্চিত করে।

ভূমিকম্পের সময় ত্রেহো ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আসন্ন একটি ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে তিনি তাঁর ক্লাব মারিতিমোর সঙ্গে কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘খেলোয়াড় লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেলা এবং সন্তান অ্যারন ও আইনোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা লুকাসের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে তাঁর পাশে আছি। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তাঁর স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোর অন্যতম ছিল প্লেয়া গ্রান্দে। ত্রেহোর পরিবার যে আবাসিক ভবনে বাস করত, সেটি ধসে পড়ার সময় তাঁরা সেখানেই ছিলেন।

আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তাঁর পরিবার নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও পেশাদার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় হন্যে হয়ে তাঁদের খুঁজছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক খবরটি নিশ্চিত হয়।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে ত্রেহো তাঁর পরিবারের অবস্থান বা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে জনসাধারণের কাছে একটি আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন।

ত্রেহো ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘প্লেয়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দয়া করে সবাই তাঁদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন, যাতে কেউ তাঁদের দেখে থাকলে জানাতে পারেন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা সেখানে ছিল না। দয়া করে আমার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’

জাতিসংঘ শনিবার জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এতে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, তারা জনসংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, ‘২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’