এমকে হক, জার্মানি
আমাদের দেশে একটা অদ্ভুত দেখনধারী সংস্কৃতি আছে। অনেকেই ভাবেন, দেশে বসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ৩০-৫০ হাজার টাকার চাকরি করে গৃহপরিচারিকা আর চালকের ওপর হুকুম চালানোই বোধহয় চরম রাজকীয় জীবন!
আর আমরা যারা ধাপে ধাপে পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম করে আজ ওয়েব ডেভেলপার হয়েছি—আমাদের দেখে তারা বাঁকা হাসেন। কারণ কী জানেন? ইউরোপের উন্নত দেশে এসে আমাদের নিজেদের ঘরের কাজ, থালাবাসন মাজা বা রান্না নিজেদেরই করতে হয়!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা প্রবাসীদের খাটো করে বা ছোট কাজ বলে বিদ্রুপ করেন, তাদের আজ একটু বাস্তবতার আয়না দেখানো দরকার।
দেশের তথাকথিত ‘রাজকীয়’ জীবন
বাংলাদেশে অল্প কিছু টাকা বেতন পেয়েও মানুষ একটা কৃত্রিম ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চায়। গৃহপরিচারিকা বা দাপ্তরিক পিয়নের ওপর রাগ ঝেড়ে নিজেদের বড়বাবু ভাবেন। কিন্তু মাস শেষে যখন যানজটের ক্লান্তি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মানসিক অত্যাচার আর পকেটে শূন্য সঞ্চয় থাকে—তখন ওই শীতল ঘরের ‘ভাব’ কর্পূরের মতো উড়ে যায়!
প্রবাসের স্বাধীন জীবনযাপন
বিদেশে আমি নিজে পাঁচ বছর ধরে পেশাদার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আছি। এখানে এসে আমরা যেটা শিখেছি, সেটা হলো স্বনির্ভরতা বা আত্মনির্ভরশীলতা। নিজের কাপড় নিজে ধোয়া, নিজের ঘর নিজে পরিষ্কার করা কোনো লজ্জার কাজ নয়-এটাই আধুনিক উন্নত বিশ্বের জীবনধারা।
সবচেয়ে বড় কথা, এই স্বাধীন জীবনের বিনিময়ে মাস শেষে আপনার পকেটে যে আর্থিক স্বাধীনতা, পরিবারের জন্য নিরাপত্তা আর ইউরোপের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আসবে- তা দেশের ওই সামান্য টাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের চাকরি আপনাকে কোনোদিন দিতে পারবে না।
পরের ওপর ভরসা করে অলস জীবন কাটানো কোনো চাতুর্য বা বুদ্ধিমত্তা নয়। নিজের কাজ নিজে করে যদি আন্তর্জাতিক মানের কর্মজীবন আর উন্নত জীবনমান গড়া যায়, তবে আমি গর্বিত প্রবাসীদের দলেই আছি।
যারা বিদ্রুপ করার, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসেই বিদ্রুপ করুক, আর আমরা আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আর সুন্দর জীবন উপভোগ করতে থাকি!
এমআরএম








