ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার মুখে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি বিক্রির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এমনকি ২০১৪ সালে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে মোটর জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সেখানে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) আঞ্চলিক গভর্নর ইগোর কোবজেভ রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ম্যাক্স’-এ জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ‘রোসনেফট’ এর গ্যাস স্টেশনগুলোতে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বেসরকারি স্টেশনগুলো এই সীমা আরো কমিয়ে আনতে পারে।
ম্যাক্স পোস্টে তিনি আরো লিখেন, “গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক ছাড়া অন্য কোনো পাত্রে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই সুপারিশ জরুরি সেবা, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পৌরসভা এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে গভর্নর জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দূরবর্তী কাজের পরামর্শ দিয়েছেন।
গভর্নর বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো অঞ্চলে অপর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের সমস্যাটি নিরসন করা, গ্যাস স্টেশনগুলোর উপচে পড়া ভিড় কমানো এবং এই কঠিন পরিস্থিতিতে সব সেবার মসৃণ পরিচালনা নিশ্চিত করা।”
সম্প্রতি ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার ১৬টি প্রধান তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের দাবি, এই হামলার ফলে রাশিয়ার ৩০ শতাংশ-এরও বেশি তেল শোধন ক্ষমতা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশ কয়েকটি শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে।
সারাটোভ, টভেরই, ওমস্ক এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ইতিমধ্যে জ্বালানি বিক্রিতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এছাড়া টিউমেন অঞ্চলের ‘গ্যাজপ্রমনেফট’ এবং ভোরোনেজ অঞ্চলের ‘লুকঅয়েল’ গ্যাস স্টেশনগুলোতেও বিক্রির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে মস্কো।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ক্রিমিয়া এবং এর বন্দর নগরী সেভাস্তোপলে। সেখানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রুশ-নিযুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে মজুতকৃত তেল কেবল জরুরি জনসেবামূলক কাজের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।








