কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ–CBSA) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক—৩ হাজার ৩২৩ জন।

সিবিএসএর হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের পর রয়েছে মেক্সিকো—১ হাজার ৫৭৩ জন। এরপর হাইতি ৪৩১, যুক্তরাষ্ট্র ৩৭২, কলম্বিয়া ৩৫৪, রোমানিয়া ২৯৩ এবং বাংলাদেশ ২২৭ জন। পাকিস্তান থেকে ২০৭, নাইজেরিয়া থেকে ২০৫ এবং চিলি থেকে ১৯০ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪২৪, ২০২১ সালে ৬০৩, ২০২২ সালে ৭৮৬, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৭৯ জনে।

বাংলাদেশিদের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য—

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সপ্তম সর্বোচ্চ অপসারণের দেশের তালিকায় রয়েছে। ২০২০ সালের তথ্যেও বাংলাদেশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ছিল—সে বছর ৩০৮ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের প্রকাশিত শীর্ষ ১০ তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]

২০২৫ সালে মোট অপসারণে বড় উল্লম্ফন

সর্বশেষ সিবিএসএ তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কানাডা থেকে মোট ফেরত পাঠানোর সংখ্যা কয়েক বছর ধরে দ্রুত বেড়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে মোট বার্ষিক ফেরত পাঠানোয় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জন ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ কী

সিবিএসএর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সবচেয়ে বড় কারণ অপরাধ নয়, বরং অভিবাসন আইন মেনে না চলা, বিশেষ করে শরণার্থী (রিফিউজি) দাবিদারদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বেশি ঘটেছে।

২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ১৬০টি ফেরত পাঠানোর মধ্যে ১৯ হাজার ২২৫টি ছিল Refugee claimants-এর Non- compliance বা অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতির কারণে। অন্যদিকে অপরাধের কারণে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৬৬ নয়, বরং ১ হাজার ৬৬ জন। সংগঠিত অপরাধের (Organized crime) ক্ষেত্রে ৯৮টি, ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৪৫টি এবং শরণার্থীর (refugee status cessation) ক্ষেত্রে দেশের ফেরত পাঠানোর ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মোট ১০ হাজার ৬০৭টি ফেরত পাঠানোর ঘটনার মধ্যে ৮ হাজার ৫৫১টি Refugee claimants-এর Non compliance এবং ১ হাজার ৩০৩টি, non-Claimants-এর Non-compliance-এর কারণে হয়েছে। অপরাধের কারণে হয়েছে ৬২৪টি। অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের মোট ফেরত পাঠানোর প্রায় ৮১ শতাংশ Refugee claimant Non-compliance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

কানাডার হাতে এখনো বিপুলসংখ্যক অপসারণের মামলা—

সিবিএসএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৮২৭ জনের removal-in-progress inventory ছিল। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন refugee claimant non-compliance শ্রেণিতে এবং ১ হাজার ৫৭৬ জন criminality শ্রেণিতে রয়েছেন।

কেন বাড়ছে ফেরত পাঠানো

সিবিএসএর সামগ্রিক তথ্য থেকে দেখা যায়, কানাডার অন্য দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো গত কয়েক বছরে জোরদার হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৯৭ এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০-এ পৌঁছায়। একই সময়ে refugee claimants-এর non-compliance-জনিত ফেরত পাঠানো ২০২৩ সালের ১২ হাজার ১৩৬ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১৯ হাজার ২২৫ হয়েছে।

সিবিএসএর ২০২৫ সালের এক সরকারি নথিতেও বলা হয়েছিল, ২০২৩–২৪ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ জনকে কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সংস্থাটি বছরে ২৫ হাজার পর্যন্ত removal enforcement করার সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি

সিসিএসএর পরিসংখ্যানকে সরাসরি ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘অপরাধী’দের তালিকা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অপসারণের বড় অংশই অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতি, বিশেষ করে শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া বা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যেও criminality-এর তুলনায় non-compliance-এর সংখ্যা অনেক বেশি।