মিউজিক ভিডিও, বিজ্ঞাপনচিত্র, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা। অসচেনতা, মাতৃত্ব, দীর্ঘ দিনের অবহেলার কারণে শারীরিকভাবে ভারী হতে থাকেন। একপর্যায়ে শার্লিনের ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪ কেজিতে। যদিও এক প্রকার সংগ্রাম করে ওজন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন, এখন তার ওজন ৫৬ কেজি। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) শার্লিন ফারজানা তার বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। ওজন বেড়ে যাওয়ার পর তার যে লুক দাঁড়ায়, সেসব ছবিও সেখানে রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান লুকও শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। হঠাৎ এসব ছবি কেন পোস্ট করলেন শার্লিন ফারজানা? 

ওজন বেড়ে যাওয়া ও ওজন কমানোর পরে সন্তানের সঙ্গে শার্লিন ফারজানা (বাঁ থেকে)

এ প্রশ্নের উত্তর শার্লিন ফারজানা নিজেই দিয়েছেন। এ অভিনেত্রী বলেন, “খুব ভালো লাগছে দেখে যে, আশেপাশের দেশগুলোর মতো আমাদের দেশের মেয়েরাও মাতৃত্বের পরবর্তী পর্যায়ে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনে মনোযোগী হচ্ছেন। সবার ট্রান্সফর্মেশনের গল্প দেখে ভাবলাম, অনুপ্রেরণা জোগাতে আমারটাও শেয়ার করি।”  

ওজন বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শার্লিন ফারজানা বলেন, “প্রথম সন্তান জন্মের পর যা ইচ্ছে হতো, খেতাম। মিষ্টি খেতাম প্রচুর। রাত ৩টা সময় সিনেমা দেখে বন্ধুর সঙ্গে পুরান ঢাকায় ঘুরতে যেতাম, যা সামনে পেতাম তাই খেতাম। দিনে ঘুমাতাম। এগুলোই ওজন বাড়ার মূল কারণ।” 

২০২০ সালে প্রথম সন্তানের মা হন শার্লিন আর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সন্তানের। শার্লিনের ওজন যখন ১১৪ কেজিতে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি তার নিজের চোখেও বিশ্বাস হচ্ছিল না। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর ফিটনেস নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠেন। কিন্তু চেষ্টা করেও ওজন কমছিল না। সেই স্মৃতিচারণ করে শার্লিন ফারজানা বলেন, “একসময় চেষ্টা করেও আর এক শর নিচে ওজন নামছিল না। তখনই বুঝলাম, আমাকে বদলাতে হবে। এই উপলব্ধি থেকেই শুরু করি নতুন যাত্রা।”  

ওজন বেড়ে যাওয়া ও ওজন কমানোর পরে স্বামীর সঙ্গে শার্লিন ফারজানা (বাঁ থেকে)

শারীরিক অনুশীলন, কঠোর নিয়ম, খাবারে নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে কমাতে থাকেন ওজন। ফিটনেস ফিরে পেতে নিজের প্রিয় খাবারের সঙ্গেই প্রথম যুদ্ধ শুরু হয় তার। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন। দিনে দুইবার খান। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করেন। দুপুরে খান হালকা খাবার, সন্ধ্যায় চিকেন, ব্রকলি ও সালাদ। সপ্তাহে দুদিন বাসমতী চালের ভাত খান, এই নিয়ম মেনে চলছেন তিনি। ওজন কমাতে গিয়ে প্রিয় খাবারও ত্যাগ করেছেন। চিনি, চিজকেক, ময়দার পরোটা—এসবে তার ভীষণ দুর্বলতা। তবে এসবই খাবার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।  

২০০৮ সালে ‘ইউ গট দ্য লুক’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে প্রবেশ করেন শার্লিন ফারজানা। খুব দ্রুত সময়ে হয়ে ওঠেন নামকরা ফ্যাশন হাউজগুলোর মডেল। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ শুরু করেন। অমিতাভ রেজার গ্রামীণফোন বিজ্ঞাপন কিংবা গাজী শুভ্রর সিলন চা বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে রাতারাতি আলোচনায় আসেন। সেই সাফল্যের পর পা রাখেন নাটক আর চলচ্চিত্রে। 

শার্লিন ফারজানা

২০১০ সালে ‘জাগো’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় পা রাখেন শার্লিন ফারজানা। তারপর সিনেমায় দীর্ঘ দিনের বিরতি। এক দশক পর মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমায় অভিনয় করেন শার্লিন। এ সিনেমা মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন এই তারকা।