বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকায় ‘বাদশা বাহাদুর’ নামের একটি হাতিকে দিয়ে বিভিন্ন জেলায় অমানবিকভাবে সার্কাস পরিচালনা করা হচ্ছিল। একটি দাঁত চুরি, পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি হাতিটির সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাতিটিকে ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার মহাস্থান বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদশা বাহাদুরকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাতিটিকে ট্রাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘বাদশা বাহাদুর’ নামের বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থানের একটি হাতি খেলা দেখানোর জন্য নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার্কাস পার্টির কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। হাতির একটি দাঁত দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়েছে। এতে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই অসুস্থ হাতি দিয়ে রাস্তায় চাঁদাবাজিও করা হয়।

হাতির মালিক মহাস্থান এলাকার আবদুস শুকুর জানান, তিনি ৬ বছর আগে ১১ লাখ টাকায় সিলেট থেকে হাতিটি কিনে আনেন। এরপর এটির নাম দেন ‘বাদশা বাহাদুর’। তিনি হাতিটি বিভিন্ন সার্কাস পার্টিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে নওগাঁর নিয়ামতপুর এলাকায় একটি সার্কাস পার্টিতে ভাড়ায় গেলে সেখানে বনের মধ্যে দুর্বৃত্তরা হাতির একটি দাঁত কেটে নেয়। এতে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সার্কাসের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাতির খাবার জোগাড় করতে রাস্তায় ঘুরে যানবাহন আটকে চাঁদা তুলতে থাকেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি শনিবার বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ-মোকামতলা) আসনের সংসদ-সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে হাতিটির চিকিৎসার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় হাতিটি নওগাঁর ধামইরহাট এলাকা থেকে বগুড়ার মহাস্থানে আনা হয়। সেখানে মালিকের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বন বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য হাতিটিকে ট্রাকে তুলে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠান।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে হাতিটির মালিক স্বেচ্ছায় এটি সরকারের জিম্মায় দিয়েছেন। হাতিটিকে শনিবার রাতেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, উন্নত পরিচর্যা এবং উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।