বগুড়া জেলায় অতিরিক্ত উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে-বিরোধী দলের এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, গত কয়েক মাসে এলজিইডির সর্বোচ্চ বরাদ্দ গেছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও বাগেরহাটে। বগুড়া বরাদ্দের তালিকায় ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিন বগুড়া উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল, এখন অতীতের সেই ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে মাত্র।
শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তৃণমূলের মানুষের কল্যাণে প্রস্তাবিত বাজেট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্র্রণীত এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধের মাধ্যমে এ বৃহৎ বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
আমরা চাই না ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে অপকর্মকে জায়েজ করতে : আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে সমাজের হাজারো অনিয়মকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে জায়েজ করতে। আমরা চাই না আগামীতে ‘নারায়ে তাকবির’ কিংবা ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে কোনো অবৈধ অপকর্মকে জায়েজ করতে। তিনি বলেন, এইমাত্র যে সংসদ-সদস্য কথা বললেন, তিনি বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি ‘আল্লাহু আকবার’-এ আপত্তি রয়েছে। আমরা যদি বুঝে থাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটি বলতে চেয়েছেন, আল্লাহু আকবার অর্থাৎ আল্লাহ মহান। এ বক্তব্য দিয়ে, এ স্লোগান দিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করবার কোনো সুযোগ নেই।
ব্যাংকিং খাত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে : আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ-সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, সরকারের ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি এবং রাজধানীর নাগরিক সমস্যাগুলোকে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় লোকসানি প্রতিষ্ঠান পুনর্মূল্যায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।





