লুকাস পাকেতার হ্যামস্ট্রিং চোট কি তবে ব্রাজিলের জন্য নতুন এক দুয়ার খুলে দিল? নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বাঁচামরার এই ম্যাচের আগে ব্রাজিল দলে চোটের বড় ধাক্কা। মাঝমাঠে কাসেমিরো এবং ব্রুনো গিমারাইসের পাশে যিনি বড় আস্থা ছিলেন, সেই পাকেতা ছিটকে গেছেন। কিন্তু এই চোটের মেঘে ব্রাজিলিয়ানরা দেখছে এক রুপালি রেখা, যার নাম—এনদ্রিক।
তবে রোববারের একাদশে এনদ্রিককে জায়গা দিতে হলে আনচেলত্তিকে তাঁর চেনা তিন মিডফিল্ডারের ছক ভাঙতে হবে। ডন কার্লো অবশ্য বরাবরই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সিদ্ধহস্ত। এনদ্রিকও জানিয়ে দিলেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকায় নামতে প্রস্তুত তিনি, ‘লিওঁতে খেলার সময় ৯ নম্বর পজিশনে খেলে আমি দলকে অনেক সাহায্য করেছি। আমি ডান প্রান্ত দিয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলতে পারি, আবার ফলস নাইন হিসেবেও লড়তে পারি।’

গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে ফ্রান্সে কাটিয়ে আসা এই তরুণ আরও বলেছেন, ‘কোচ আমার গুণ আর বৈশিষ্ট্যগুলো খুব ভালো করেই জানেন। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদে আমরা একটা পুরো বছর একসঙ্গে কাটিয়েছি। তিনি আমাকে সব সময় খুব কাছ থেকে দেখতেন এবং বুঝতেন আমি কীভাবে দলকে সাহায্য করতে পারি। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়—তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন, আমি কী অবদান রাখতে পারি।’
হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে সেই ঘাম ঝরানো ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচটার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? বিরতির পর পাকেতার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এনদ্রিক। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সেদিন ম্যাচ শেষ করেছিল চার ফরোয়ার্ড আর দুই মিডফিল্ডারের এক অতি-আক্রমণাত্মক রূপ নিয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে আনচেলত্তি যদি আরও একটু আক্রমণাত্মক হতে চান, তবে এনদ্রিককে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে।

কোচ আনচেলত্তির ওপর এনদ্রিকের ভরসা আবার অন্ধের মতো। কোচের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করতে গিয়ে একটু মজাই করলেন এই তরুণ, ‘তিনি (আনচেলত্তি) কাউকে ভয় পান না। তিনি যা ভাবেন, সেটাই করেন এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটে। মনে হয় ঈশ্বর সব সময় তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন, তিনি যেন এক অলৌকিক আলোয় আলোকিত। এই ভদ্রলোক যা-ই করেন, শেষ পর্যন্ত তা-ই ফলে যায়! আমরা সব খেলোয়াড় কোচের পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। আমার মনে হয়, এভাবেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।’
তবে রোববারের প্রতিপক্ষ নরওয়েকে নিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের একটা মৃদু অস্বস্তি আছে। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলে কখনো হারেনি, এমন বিরল কীর্তি আছে যে কটি দলের, নরওয়ে তার একটি। চারবারের দেখায় দুটি জয় আর দুটি ড্র নরওয়েজিয়ানদের। যার মধ্যে আছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সেলেসাওদের সেই বিখ্যাত ২-১ ব্যবধানে হারানোর স্মৃতিও!
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ব্রাজিল ফুটবল দল স্বপ্ন দেখছে সেই ফাইনালের মঞ্চে ফেরার। কিন্তু তার আগে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই রোববারের ম্যাচে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এনদ্রিকের তাই চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, ‘ম্যাচে যদি আমরা পিছিয়েও পড়ি, আমাদের ঠিক আগের ম্যাচের (জাপানের বিপক্ষে) মতোই শান্ত ও স্থির থাকতে হবে। জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়তে হবে। কারণ আমরা জানি, এটা নকআউট পর্ব—এখানে হয় মারো, না হয় মরো!’
আনচেলত্তির সেই অলৌকিক ছোঁয়ায় এনদ্রিক নামের এই ‘বহুরূপী’ অস্ত্র নরওয়ের দুর্গ ভাঙতে পারে কি না, সেটার উত্তর দেবে মেটলাইফের সবুজ মাঠ।








