বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন করেছে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। ঋণের সম্ভাব্য পরিমাণ সম্পর্কে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, এর পরিমাণ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ। আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। অর্থনৈতিক চাপের মুখে বিশ্বের অনেক দেশই সংস্থাটির সহায়তা নেয়। কারণ, তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। তবে এই ঋণের সঙ্গে কঠোর সংস্কার-শর্তও যুক্ত থাকে। সেই শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ঋণের কিস্তি স্থগিত হওয়ার নজিরও রয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে বাজারভিত্তিক পদ্ধতি চালু করাসহ বেশ কয়েকটি নীতিগত পরিবর্তন আইএমএফের শর্তের অংশ হিসেবেই বাস্তবায়িত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হওয়ার পর ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। কিন্তু সংস্কার-শর্ত পূরণে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় আর সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও আইএমএফকে রাজি করানো যায়নি। বর্তমান সরকার এমন সময়ে নতুন ঋণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে, যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। তবে এই উন্নতির বড় কারণ আমদানি কমে যাওয়া। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হয়ে আমদানি বাড়লে রিজার্ভ আবারও চাপে পড়তে পারে। একই সময়ে বড় বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থেরও প্রয়োজন রয়েছে। ফলে নতুন ঋণ কর্মসূচির উদ্যোগকে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। সরকার আইএমএফকে জানিয়েছে, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কয়েকটি সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের কথা বলেছে। আগামী মাসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে এসে নতুন কর্মসূচির সম্ভাবনা, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এবং সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের সুশাসন, বিনিময় হার, ঋণ নীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের রাজস্ব আহরণের হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত নিম্ন। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রায় ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব ঘাটতি বড় আকার ধারণ করতে পারে। ফলে উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ক্রমেই বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি ঋণের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সামনে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বাস্তবতা। এর ফলে ভবিষ্যতে আগের মতো সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের বড় অংশই রেয়াতি হলেও আগামী বছরগুলোতে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে ঋণ ব্যবস্থাপনায় এখন থেকেই আরও সতর্ক ও দূরদর্শী নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই। রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতের দুর্বলতাও অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সরকারের মোট ঋণের বড় অংশই এখন দেশীয় উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উচ্চ সুদহার, খেলাপি ঋণের বিস্তার, বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক আস্থার ঘাটতির কারণে নতুন বিনিয়োগের গতি শ্লথ হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ায় বেকারত্বও ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকও মিশ্র চিত্র তুলে ধরছে। রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। অন্যদিকে প্রবাসী আয় আশাব্যঞ্জক হলেও এককভাবে তা অর্থনীতির সব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য রপ্তানি, বিনিয়োগ, রাজস্ব আহরণ এবং উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই সমান অগ্রগতি প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় নতুন ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার একদিকে বৈদেশিক অর্থায়নের নিশ্চয়তা চায়, অন্যদিকে আগের কর্মসূচিতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া সংস্কারগুলো নতুন বাস্তবতার আলোকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তবে আগের কর্মসূচি কেন কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন জরুরি। জ্বালানি মূল্যের স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়, রাজস্ব সংস্কার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং ব্যাংক খাতের সুশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়াই মূল বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আইএমএফও ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। তাই নতুন কর্মসূচিতে আগের শর্তগুলো হুবুহু বহাল রাখার পরিবর্তে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্কার এজেন্ডা পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করবে। নতুন কর্মসূচির আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর-ছাড়ের যৌক্তিকীকরণ, ভ্যাটব্যবস্থার সংস্কার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, ব্যাংক খাতের সুশাসন এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ। এসব সংস্কার দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের গতি ছিল ধীর। ফলে নতুন কর্মসূচিতেও একই বিষয়গুলো আবার সামনে আসবে। তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা যতটা বাস্তব, এর সামাজিক প্রভাবও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। করের আওতা বৃদ্ধি, ঋর্ণুকি হ্রাস, জ্বালানি মূল্যের সমন্বয় কিংবা বিনিময় হার আরও বাজারনির্ভর হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে। তাই সংস্কার বাস্তবায়নে এমন ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যাতে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হয়, আবার নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি না হয়। এদিকে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে অর্থ আসছে, তার বড় অংশই এখন অতীতে নেয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন করে যে সম্পদ যুক্ত হওয়ার কথা, তার পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ, অনুদান এবং অর্থছাড়—সব ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অর্থায়নের জন্য উদ্বেগের বিষয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তথ্য বলছে, বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে যে অর্থ এসেছে, তার প্রায় পুরো অংশই ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারযোগ্য নিট বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এটি সরাসরি ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ করার পরিস্থিতি না হলেও সামগ্রিক অর্থপ্রবাহের দৃষ্টিকোণ থেকে একই ধরনের চাপের ইঙ্গিত দেয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের ব্যয় প্রতিবছর বাড়ছে। গত এক দশকে বাস্তবায়িত বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অনেক ঋণের অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়ন যুক্ত হওয়ায় একই পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতেও সরকারকে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ঋণের চাপ শুধু ডলারের হিসাবে নয়, দেশীয় মুদ্রার হিসাবেও দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় হচ্ছে না। এর ফলে উন্নয়ন অর্থায়নের ভারসাম্য দুর্বল হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নেও অর্থসংস্থানের চাপ বাড়তে পারে। বাংলাদেশ এখনও বৈদেশিক ঋণসংকটে পড়েনি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক ঋণের অনুপাত এখনও সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ঋণ ব্যবস্থাপনায় আগের মতো নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ আর নেই। নতুন ঋণের প্রবাহ কমছে, অনুদান হ্রাস পাচ্ছে, ঋণ পরিশোধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং রেয়াতি ঋণের সুযোগও ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে। ফলে অর্থনীতির জন্য এটি সতর্ক হওয়ার সময়। এই বাস্তবতায় আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচিকে কেবল অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্থনীতির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার সুযোগ হিসেবে এই কর্মসূচিকে কাজে লাগানো। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ব্যাংক খাতের সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি—এসব সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সংস্কারের সাফল্য কেবল শর্ত পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তাই সংস্কার এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের গতি বাধাগ্রস্ত না হয়। ঋণ গ্রহণ নিজেই কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় না বা তা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। তাই এখন প্রয়োজন ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রতিটি ঋণের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ফল নিশ্চিত করা। যে প্রকল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে, অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত সেই প্রকল্পই। বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বল্পমেয়াদি ঋণনির্ভর সমাধানের পরিবর্তে যদি কার্যকর সংস্কার, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বর্তমান চ্যালেঞ্জই ভবিষ্যতের টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় ঋণের বোঝা, রাজস্ব দুর্বলতা ও ব্যাংক খাতের সংকট মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে। এখন প্রয়োজন বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত, দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। [লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]