ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুল মমিন (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন।কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার পুরো টাকা ভুক্তভোগী কিশোরী ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে এই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। প্রয়োজনে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগীর ছেলে। মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ১৪ বছর বয়সী ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা রেখে তার মা পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি মমিনকে ধর্ষণের অবস্থায় দেখতে পান। বাধা দিতে গেলে মমিন তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দিলেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। বিশেষ করে আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
রাজনীতি
বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন, ধর্ষকের সম্পত্তি নিলামে তোলার নির্দেশ

শেয়ার করুন







