দীর্ঘদিনের বকেয়া ৫ শতাংশ বিলম্ব জরিমানা ও অন্যান্য আইনসঙ্গত পাওনা পরিশোধের দাবিতে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। ‌‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। গত ১৮ মাস ধরে বিভিন্নভাবে দাবি জানানো হলেও গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

তথ্য উপদেষ্টা / রিফাইন্ড হোক বা তৃণমূল, কোনো নামেই কর্মসূচি চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ

বক্তারা তাদের দাবি অনুযায়ী বকেয়া ৫ শতাংশ বিলম্ব জরিমানা এবং অন্যান্য আইনসঙ্গত পাওনা দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান করার আহ্বানও জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, কর্মীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মীবান্ধব নীতি অনুসরণ, পারস্পরিক আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আরও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।

সাবেক কর্মীদের দাবির বিষয়ে গ্রামীণফোন বলছে, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। কোম্পানির হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, কিছু সাবেক কর্মী বিভিন্ন সময় জিপি হাউজের সামনে ও অন্যান্য স্থানে সমবেত হয়ে চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছেন। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধিকাংশই কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

তিনি বলেন, উত্থাপিত দাবিগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গ্রামীণফোন বিশ্বাস করে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।

শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আরও দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামীণফোন, এর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। পাশাপাশি কোম্পানি ও এর কর্মীদের উদ্দেশে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, কর্মী ও কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকারের প্রতি কোম্পানি শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে কর্মী, গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জিপি হাউজের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

ইএইচটি/কেএসআর