গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। বন্ধুকে দাওয়াত দেওয়ার আগেই খুন করার ছুরি কেনায় দেশজুড়ে আলোচিত ভাংনামারীর গার্মেন্টকর্মীর হত্যাকাণ্ড।

এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বারুয়ামারীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতায় আসামি গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের দুর্বারচর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ মঙ্গলবার রাতে রাকিব নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, শনিবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মেহেদী হাসান। তিনি গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারীর আবু হানিফের পুত্র। আর হত্যাকাণ্ডের স্বীকার আলিফ আহাম্মদ হলেন ঠাকুরগাঁও জেলার গোবিন্দনগর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার পুত্র। ২৫ জুন সকালে গৌরীপুর থানা পুলিশ বেগুন খেত থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. আরিফ রানা বাদী হয়ে মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেহেদী হাসান আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় ইউনিয়নে ইন্ডাস্ট্রিতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের পাশাপাশি ১০-১৫ জনের গার্মেন্টকর্মীর খাবারের একটি মেস পরিচালনা করতেন আলিফ আহাম্মদ। মেস থেকে প্রতি মাসে কিছু টাকা লাভ হতো। পরে একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার ঋণ নিয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে এ মেস পরিচালনার শেয়ার হন মেহেদী হাসান। এ টাকার বিনিময়ে তাকে প্রতিমাসে ১-২ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা ছিল। কথা অনুযায়ী কয়েক মাস লাভের টাকাও দেন। এরপর থেকে আলিফ আহাম্মদ লাভের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে আসল টাকার কথাও অস্বীকার করে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে আলিফকে ২৪ জুন নিজ বাড়িতে দাওয়াত দেন, তবে এর আগেই কোনাবাড়ি থেকে তাকে হত্যার জন্য ছুরি কিনেন মেহেদী। মেহেদীর আমন্ত্রণে বারুয়ামারীতে বেড়াতে আসেন আলিফ আহাম্মদ। ওইদিন রাতে আবারও টাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামে আব্বাস আলী আকন্দের পুত্র আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি রোববার রাত সাড়ে ১০টায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাং পথরোধ করে চেনায় ফেলায় তাকে খুন করেছে বলে স্বজনরা দাবি করেন।