‘সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও এক বছর সন্তান না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে নারীর বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে, মাসিক অনিয়মিত থাকলে কিংবা স্বামী–স্ত্রীর কারও আগে অস্ত্রোপচার বা খারাপ রিপোর্টের ইতিহাস থাকলে ছয় মাসের মধ্যেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বিশ্ব ইনফার্টিলিটি অ্যাওয়ারনেস মান্থ উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন আলোচনায় কথাগুলো বলেন ডা. ফারজানা দীবা। প্রথম আলো ডটকমের আয়োজনে এসকেএফ হরমোনস নিবেদিত ‘সুস্থ নারী, সমৃদ্ধ আগামী’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান গত মঙ্গলবার রাতে সরাসরি সম্প্রচার হয় প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা দীবা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তাসনুভা মোহনা।
এ পর্বে ইনফার্টিলিটি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং দম্পতির মানসিক সহযোগিতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—ইনফার্টিলিটি মানেই শেষ নয়; সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে মাতৃত্বের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
বদলেছে ইনফার্টিলিটি নিয়ে ধারণা
একসময় মনে করা হতো, ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্বের কোনো সমাধান নেই। সন্তান না হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীকেই দায়ী করার প্রবণতাও ছিল। তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন ডা. ফারজানা দীবা।
মাসিক অনিয়মিত হলে অনেক নারী এখন বিয়ের আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসছেন বলে জানান তিনি। সন্তান হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা আগেই সচেতন হচ্ছেন। পাশাপাশি স্বামী–স্ত্রী দুজনের একসঙ্গে চিকিৎসকের কাছে আসার প্রবণতাও বেড়েছে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
অনেক দম্পতি বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। সংকোচ বা লোকলজ্জার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। কিন্তু চিকিৎসায় দেরি হলে বিশেষ করে নারীর বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দীবা। তিনি বলেন, ‘কোনো দম্পতি এক বছর একই ছাদের নিচে থাকার পর কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।’

তবে কিছু ক্ষেত্রে এক বছর অপেক্ষা না করে আরও আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নারীর বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে, স্বামী বেশি বয়সে বিয়ে করলে, স্বামী দেশের বাইরে থাকলে, ডিম্বাশয় বা অণ্ডকোষে আগে কোনো অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে কিংবা আগের কোনো পরীক্ষার ফল খারাপ হলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
ক্যারিয়ার ও মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত
একজন নারীর জীবনে ক্যারিয়ার গড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং মা হওয়ার জন্য সামাজিকভাবে নির্ধারিত সময় প্রায়ই একসঙ্গে চলে আসে। ফলে অনেক নারী ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে চাপের মধ্যে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পিয়া জান্নাতুল জানান, ‘আমি সব সময় চেয়েছি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন একসঙ্গে সামলাতে। যে বয়সে মা হওয়ার চাপ থাকে, সেই বয়সেই ক্যারিয়ারেরও বড় চাপ থাকে। আমি দুটিকে একসঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করেছি। সন্তান নেওয়া, সন্তানকে বড় করা এবং একই সঙ্গে ক্যারিয়ার পরিচালনা করা একজন নারীর জন্য কঠিন। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এটি সামলানো আরও কঠিন হয়ে যায়।’
সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করে পিয়া জান্নাতুল। তাঁর মতে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তানকে লালনপালনের বড় একটি দায়িত্ব নারীকেই পালন করতে হয়। তাই তাঁর শরীর ও জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রথম মতামতটি তাঁরই হওয়া উচিত।
ধাপে ধাপে এগোয় চিকিৎসা
ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা মানেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। এই ধারণা পুরোপুরি সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দীবা। তিনি বলেন, ‘সমস্যা ঠিক কতটুকু এবং রোগী কত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে এসেছেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। অল্প বয়সে এবং সমস্যা কম থাকতেই এলে চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয় না।’
ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা ধাপে ধাপে এগোয় বলে জানান ডা. ফারজানা দীবা। প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাটি স্বামীর, স্ত্রীর নাকি দুজনের—তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্য বা সিমেন অ্যানালাইসিস করা হয়। নারীর ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় হরমোন পরীক্ষা করে ডিম্বাণু ঠিকমতো তৈরি ও ডিম্বস্ফুটন হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়।
ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘পরীক্ষার ফল মোটামুটি ভালো থাকলে আমরা মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে শুরু করি। অনেক ক্ষেত্রে শুধু পরামর্শ দেওয়া হয়—কোন সময় ডিম্বস্ফুটন হবে এবং কোন সময়ে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বেশি।’ এতে ফল না এলে পরবর্তী ধাপে ইনজেকশন, ল্যাপারোস্কপি, আইইউআই বা আইভিএফের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি।
সমস্যা পুরুষেরও হতে পারে
সন্তান না হলে নারীকে দায়ী করার প্রবণতা সমাজে এখনো রয়েছে। তবে ইনফার্টিলিটিতে পুরুষের সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান ডা. ফারজানা দীবা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যে হিসাব দেখি, তাতে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষের সমস্যা পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে নারীর সমস্যা থাকে, কিছু ক্ষেত্রে স্বামী–স্ত্রী দুজনেরই সমস্যা থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কারও কোনো সমস্যা পাওয়া যায় না, কিন্তু সন্তান হয় না।’
কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া না গেলে সেটিকে ‘আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি’ বলা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পুরুষ শারীরিকভাবে সক্ষম হলেই তাঁর সন্তান ধারণের সক্ষমতা রয়েছে—এই ধারণাটিও ভুল বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দিবা। তিনি বলেন, ‘শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি শুক্রাণু থাকতে হবে। শুক্রাণুর গঠন ঠিক থাকতে হবে এবং এর চলাচলের সক্ষমতাও ভালো হতে হবে। এই তিনটি বিষয় ঠিক থাকলে একজন পুরুষ বাবা হতে পারেন।’
জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা প্রয়োজন
সন্তান নিতে দেরি হলে একজন নারীকে স্বামী, শ্বশুরবাড়ি, বাবার বাড়ি ও সমাজের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এতে তাঁর ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন পিয়া জান্নাতুল। সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে দেরি করায় তাঁকেও পরিবারের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হয়েছে বলে জানান।
নিজের পরিচিত একজন নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে ওই নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে দেরি করেছিলেন। কিন্তু পরিবার থেকে তাঁকে বলা হতো, তাঁর হয়তো কোনো সমস্যা রয়েছে।’
পিয়া জান্নাতুল বলেন, ‘এ ধরনের কথাবার্তার কারণে একজন নারী বিষণ্নতায় চলে যেতে পারেন এবং তাঁর ক্যারিয়ার ও শরীরেও প্রভাব পড়তে পারে। পরিবারের সহযোগিতা তো প্রয়োজনই, বিশেষ করে স্বামীর মানসিক সহযোগিতা পুরোপুরি প্রয়োজন। স্বামী মানসিকভাবে পাশে না থাকলে পুরো বিষয়টি একজন নারীর জন্য অনেক কঠিন হয়ে যায়।’
স্বামী–স্ত্রীর একসঙ্গে চিকিৎসা
ইনফার্টিলিটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে স্বামী–স্ত্রী দুজনেরই উপস্থিত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দীবা। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই একজনকে একা আসতে উৎসাহিত করি না। আমরা বলি, স্বামী–স্ত্রী দুজন একসঙ্গে আসবেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী তাঁর মা বা শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এতে স্বামীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সমস্যা নিয়ে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে।’
ডা. ফারজানা দীবা আরও বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, স্বামীর শুক্রাণু নেই। তারপরও স্ত্রীকেই বারবার চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। স্বামী মনে করেন, তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম, তাই তাঁর কোনো সমস্যা নেই। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। স্বামী বা স্ত্রীর যারই সমস্যা থাকুক না কেন, বারবার একে অপরকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হয়।’
নারী–পুরুষ উভয়ের জীবনযাপন
ইনফার্টিলিটির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই জীবনযাপনে পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দীবা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ওজন নারী ও পুরুষ দুজনের ক্ষেত্রেই সন্তান হওয়ার পথে বাধা হতে পারে। পুরুষের অতিরিক্ত ওজন থাকলে শুক্রাণু বা দাম্পত্য সম্পর্কজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।’
নারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজনের কারণে মাসিক অনিয়মিত হওয়া এবং পিসিওএসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘জীবনযাপনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি কমাতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।’
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট অথবা প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি। এসবের পরও ওজন না কমলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
পিসিওএসে থাকে নানা জটিলতা
পিসিওএস নিয়ে নারীদের মধ্যে নানা ধরনের ভয় রয়েছে। ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্টের মতো কিছু দেখা গেলে অনেকে মনে করেন, এটি ক্যানসার হতে পারে বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। তবে পিসিওএস শুধু ডিম্বাশয়ে সিস্টের সমস্যা নয় বলে মন্তব্য করেন ডা. ফারজানা দীবা।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের রোগীর থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে, শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেশি থাকতে পারে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিস হতে পারে। কারও রক্তে চর্বির মাত্রা খারাপ থাকে, পেট ও কোমরে চর্বি বেশি থাকে কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থাকতে পারে।’
পিসিওএসে আক্রান্ত অনেক নারীর মাসিক নিয়মিত হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নির্দিষ্ট আকারে বড় না হওয়ায় ডিম্বস্ফুটন হয় না। এ প্রসঙ্গে ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘যাঁর বছরে ১২ বার মাসিক হয়, তাঁর ডিম্বস্ফুটনের সুযোগও বেশি থাকে। আর যাঁর তিন বা চার মাস পরপর মাসিক হয়, তাঁর বছরে ডিম্বস্ফুটনের সুযোগ অনেক কমে যায়।’
কারণ পাওয়া না গেলেও চিকিৎসা রয়েছে
কিছু দম্পতির প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা পড়ে না, কিন্তু তারপরও তাঁদের সন্তান হয় না। এ অবস্থাকে ‘আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি’ হিসেবে চিকিৎসা করা হয় বলে জানান ডা. ফারজানা দীবা। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষেত্রে বেশি দিন অপেক্ষা করা যাবে না। কারণ কোথায়, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।’
কখনো ল্যাপারোস্কপি করে ভেতরে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা দেখা হয়। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে আইইউআই বা পরবর্তী সময়ে আইভিএফের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি।
ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘যেসব রোগীর কারণ পাওয়া যায়, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। কারণটি চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেওয়া যায়। কিন্তু কারণ পাওয়া না গেলে অনেক ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত আইভিএফ পর্যন্ত যেতে হতে পারে।’
দেশেই হচ্ছে উন্নত চিকিৎসা
ইনফার্টিলিটির উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকেই দেশের বাইরে যান। তবে বাংলাদেশেও আইইউআই, আইভিএফ, ল্যাপারোস্কপি ও হিস্টেরোস্কপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘আমাদের দেশে সব ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি পর্যায়েও আইভিএফের মতো চিকিৎসা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় কিছু রোগীর আইভিএফ চিকিৎসা করা হয়। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ ছাড়া নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় রোগীদের ভর্তুকি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’
ডা. ফারজানা দীবা বলেন, ‘আইইউআই, আইভিএফ কিংবা অন্য কোনো উন্নত চিকিৎসা—যেসব প্রতিষ্ঠানে ইনফার্টিলিটি ইউনিট রয়েছে, সেখানে এসব চিকিৎসার অনেকটাই সম্ভব।’
ভয় নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে চিকিৎসা
ইনফার্টিলিটি মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ নয়। এটি একটি শারীরিক ও হরমোনজনিত জটিলতা। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং স্বামী–স্ত্রীর মানসিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেক দম্পতি সন্তানের মুখ দেখছেন বলে আলোচনায় মতামত ব্যক্ত করেন অতিথিরা।
লোকলজ্জা বা ভয় পেয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় আলোচনায়। কারণ, চিকিৎসায় যত দ্রুত সমস্যাটি শনাক্ত করা যায়, দম্পতির জন্য পরবর্তী পথ নির্ধারণ করাও তত সহজ হয়।








