বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাতিলের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের যে উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি রয়েছে, তা সম্পূর্ণ দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় এবং ভবিষ্যতেও তা একইভাবে অব্যাহত থাকবে। আজ মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, এই বক্তব্যের মাধ্যমে দিল্লি তার অবস্থান পরিষ্কার করল।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থমকে যাবে বা বাতিল হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের যে উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি রয়েছে, তা দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানেও বিষয়টি সেভাবেই চলছে।’

এর আগে গত সপ্তাহেও রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ভারতের দেওয়া আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মূলত একটি দ্বিপক্ষীয় এবং যৌথভাবে অনুমোদিত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা দুই দেশ নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার। বিগত আট বছরে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অবকাঠামো, সড়ক, রেলপথ, নৌপথ এবং বন্দর উন্নয়নের জন্য প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) মার্কিন ডলারের তিনটি ঋণের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ, মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মৈত্রী পাইপলাইনের মতো মেগা প্রকল্পগুলো ভারতের অনুদান ও যৌথ কারিগরি সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এর বাইরেও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষায় ভারত বাংলাদেশে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ের ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জলবিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা গভীর, যার আওতায় ভারত থেকে নিয়মিতভাবে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, এই দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা নিয়মিতভাবে উভয় দেশের যৌথ টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের গভীরতা বজায় রেখে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পারস্পরিক স্বার্থ এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে দিল্লি আশা প্রকাশ করেছে।