দীর্ঘ দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রোববার (২৮ জুন) থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু করা হলো ভারতের পর্যটন ভিসা। আর তাতেই কলকাতার ‘এক টুকরো বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত নিউমার্কেট চত্বরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। ফের পুরনো ছন্দে ফিরবে নিউমার্কেটের ব্যবসা— এই প্রত্যাশায় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
গত শনিবার কলকাতার নিউমার্কেটের মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রিস্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি অতিথিদের আগমনকে কেন্দ্র করে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি পর্যটকশূন্য কলকাতার নিউমার্কেট, ধুঁকছেন ব্যবসায়ীরা
ওই বৈঠকে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা নিউমার্কেট এলাকায় সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি জোরদার করা এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশি অতিথিরা কোনো সমস্যায় পড়লে কীভাবে দ্রুত সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়েও কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশিরা যাতে আগের মতোই কলকাতায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ পান, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়াই ছিল এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
বৈঠক শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে নিউমার্কেট চত্বরের প্রায় ৩৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা যাচাই করা হয়।
দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা চালুর আনন্দে বৈঠক শেষে নিজেদের মধ্যে মিষ্টিমুখ ও মিষ্টি বিতরণ করেন নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা আশাবাদী, সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিউমার্কেট আবার তার চেনা প্রাণচঞ্চল রূপ ফিরে পাবে।
আরও পড়ুন
‘অসহায়ত্ব কাটবে’ / বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালুর খবরে খুশির হাওয়া কলকাতায়
শুধু ব্যবসা নয়, কলকাতার পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিউমার্কেট থেকে শুরু করে বড়বাজার— সর্বত্রই এখন আশার সুর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার পুরোনো কলকাতার ব্যস্ততা ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
নিউমার্কেটের বস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় মজুমদার জাগোনিউজকে বলেন, ‘শুধু মেডিকেল ভিসার ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালানো সম্ভব ছিল না। ফলে পরিবহন থেকে শুরু করে গোটা এলাকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশা করছি আবার আগের মতো পরিস্থিতি ফিরবে।’
নিউমার্কেটের সুপরিচিত খাবারের হোটেল কস্তুরী বা খালেকের কর্মচারী সাইফ উদ্দিন জানান, ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শুধু মেডিকেল ভিসায় যারা আসছিলেন, তাদের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চলছিল না। পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় আমরা ভীষণ খুশি। আমরা আশাবাদী, ফের আগের মতো জমজমাট ব্যবসা হবে।
ডিডি/কেএএ/








