কলকাতার ব্যস্ততম শিয়ালদহ রেল স্টেশনের বাইরে হিন্দিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন গুটিকয়েক মানুষ। যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, “ঢাকা চায় স্বাধীনতা, রংপুর চায় স্বাধীনতা, চট্টগ্রাম চায় স্বাধীনতা, বরিশাল চায় স্বাধীনতা, খুলনা চায় স্বাধীনতা, সিলেট চায় স্বাধীনতা, যশোর চায় স্বাধীনতা, আমরা একসাথে মিলে ছিনিয়ে নেব স্বাধীনতা, ইউনুস তুমি শুনে নাও স্বাধীনতা, জামাত তুমি শুনে নাও স্বাধীনতা।”
প্রথম শুনলে আচমকা মনে হবে ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল সময়ে ফিরে গেছে কলকাতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চলছে কলকাতার রাজপথে। কিন্তু একটু ভালো করে শুনলে বোঝা যাবে কলকাতার ওই ছোটখাটো বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশকে সাত টুকরো করার দাবি জানানো হচ্ছে ! বাংলাদেশ ভেঙে তারা বানাতে চায় হিন্দুদের হোমল্যান্ড ‘বঙ্গদেশ।’
বাংলাদেশির ভিসা দেওয়ার প্রতিবাদে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে এমন বিক্ষোভ করেছে জাতির কথা নামে একটি অরাজনৈতিক হিন্দু সংগঠনের ১০/১২জন সদস্য।
অরাজনৈতিক ওই হিন্দু সংগঠনটির নেতা জয়জিৎ ভট্টাচার্য রীতিমত তার ঘৃণা ভাষণে বাংলাদেশকে তীব্র আক্রমণ করেন।
বাংলাদেশকে অকৃতজ্ঞ বেইমান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ স্বাধীনতার পরেই ভারতীয় আর্মিকে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়। আমিও বলছি বাংলাদেশি জেহাদিগণ আমার দেশ থেকে বেরিয়ে যাও, নয়তো মারতে মারতে এখান থেকে তাড়াব তোদেরকে। এখানে তোদের কোনো স্থান নেই। ভারত হারলে পৈশাচিক উল্লাস করে এরা। অস্ট্রেলিয়ার জয়ে যদি আনন্দ পায় তাহলে যা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে চিকিৎসা করা। এখানে আসিস কেন তোরা? অস্ট্রেলিয়া যা ওখানে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করা। আমাদের মালাউন গো দেশে তোরা কেন আসিস? আমরা তো নোংরা, আমাদের বাড়িতে বাথরুম নাই। কত কিছু বলিস তোরা। তাহলে এখানে আসিস কেন চিকিৎসা করাতে?”
তিনি বলেন, “আজ এখানকার নার্সিংহোমগুলো কিছু অর্থের লোভে দিপু দাসকে যারা পুড়িয়ে বারবিকিউ বানায়, যারা পূর্ণিমা শীলকে ধর্ষণ করে, যারা রাজেন্দ্রলালের গলা কাটে , যারা বলে সকাল-বিকেল মালাউন ধর সকাল বিকেল নাস্তা কর-আপনারা তাদের চিকিৎসা করাবেন দুটো পয়সার লোভে? ১০টা বাংলাদেশি আপনাদের নার্সিংহোমে চিকিৎসা না করালে আপনাদের নার্সিংহোম কি উঠে যাবে? রাজ্য সরকারকে বলছি, এই যে নোংরা, অসভ্য, বর্বর, জঙ্গি- যারা ওপারে আমাদের হত্যা করে ভারতকে ভাঙার স্বপ্ন দেখে, সেভেন সিস্টার্সকে ভাঙ্গার স্বপ্ন দেখে তাদেরকে কেন ভিসা দেওয়া হবে?”
হিন্দু সংগঠনটির এই নেতা বলেন, “আপনারা বলবেন চিকিৎসা করা মানবিকতা। কার সঙ্গে মানবিকতা? শত্রুর সঙ্গে কিসের মানবিকতা? এখানে চিকিৎসা করাবে তারপর তিনি গিয়ে হিন্দুবাড়িতে ধর্ষণ করবেন, হিন্দুদের জোর করে গোমাংস খাওয়াবে। আবার অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসা করাতে আসবে। এটা কী চলছে ? এটা বন্ধ হওয়া দরকার।”
বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মোদের গরব মোদের আশা জিহাদি বাংলাদেশিদের বাংলা ভাষা। অপারেশন সিঁদুরের পর সব থেকে বেশি উল্লাস করেছে বাংলাদেশের জিহাদিরা। ভারতের কোনো ক্ষতি হলে সবথেকে বেশি উল্লাস প্রকাশ করে বাংলাদেশের জিহাদিরা। তাদেরকে ভিসা কেন? নরেন্দ্র মোদিজি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ। আপনি তো বারবার পশ্চিমবঙ্গে আসেন। যে মা দুর্গার ভূমিকে প্রতিদিন গালাগাল দেওয়া হয়, যে মা দুর্গাকে বাংলাদেশে ধর্ষণ করা হয়, সেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদীজি আপনি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন? বন্ধ করুন এই ভিসার নাটক।”








