সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা দেবে সরকার। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর জন্য শুকনা খাদ্য সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচিও শুরু করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা। অনেক এলাকায় ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের নতুন করে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে এখনো ব্যাপক পরিসরে আমন রোপণ না হওয়ায় বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিকল্প বীজতলা তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতে কীটনাশকের মান নিয়ন্ত্রণে জোর কৃষিমন্ত্রীর
মন্ত্রী জানান, সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বীজ উৎপাদন করবে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণ উপযোগী ধানের জাত ব্যবহার করে পুনরায় আবাদ নিশ্চিত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে।
নগদ সহায়তা দেওয়া হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপাতত কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা প্যাকেজের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে খড়, ঘাস ও পশুখাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই দুর্গত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য শুকনা খাদ্য সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা ও বন্যার সময় গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খুরা রোগ প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সব গবাদিপশুকে দ্রুত টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যায় অনেক পুকুরের বাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
কৃষিতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষি, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র প্রস্তুত করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
এমএএস/এমআইএইচএস








