‎বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথিদের আপ্যায়ন প্রায় শেষ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা ছিল বরযাত্রীর। ঠিক সেই মুহূর্তে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে থেমে গেল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবাকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।‎

আজ ‎শনিবার বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার।‎

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আব্দুল মান্নান ও নাসিমা বেগম দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙিয়ে অতিথিদের আপ্যায়নের কাজ চলছিল এবং সবাই বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।‎

‎গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাঁদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

‎‎প্রশাসন জানায়, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এ বিয়ের আয়োজন বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিভাবকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধ করেন। পাশাপাশি কনে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।‎

‎কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, ‘বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।’