তীব্র গ্যাস-সংকটের মধ্যেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসায় বাসন-পাতিল হাতে রাজধানীতে পেট্রোবাংলা অভিমুখে ‘প্রতীকী মার্চ’ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচি পালন করে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
এ সময় সার্ক ফোয়ারার সামনে সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ও জনবান্ধব কর্মসূচি নেওয়ার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো সংস্থাগুলো লুটপাটের সংস্থায় পরিণত হয়েছে। পেট্রোবাংলায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ২০-৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। এর ভাগ মন্ত্রী থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যায়।
এ সময় গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করলে ঢাকাবাসীকে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের বোনেরা রান্না করতে পারছেন না। এর প্রতিবাদে আমরা খালি বাসন ও পাতিল নিয়ে এসেছি। এগুলো নিয়ে আমরা পেট্রোবাংলা অভিমুখে মার্চ করছি। দ্রুত গ্যাস-সংকটের সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করে জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, ১০ আগস্টের মধ্যে গ্যাসের সংকট সমাধান না হলে মানুষ গ্যাসের অফিস ঘেরাও করবে। যেভাবে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে, সেভাবে গ্যাসের দামও যদি বাড়ানো হয়, তাহলে পেট্রোবাংলার টেবিল-চেয়ার খুলে আনা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশের পর সার্ক ফোয়ারা থেকে বাসন ও পাতিল হাতে একটি মিছিল শুরু হয়ে পেট্রোবাংলা ভবনের গেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় দলের নেতারা বলেন, দেশে চলমান গ্যাস-সংকটের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে। কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না।








